কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০৯+৩১০

মানুষ তখন ভাবতো সিনবাদ বা তালিব কীভাবে উড়ে যায় আর সেটা কীভাবে সম্ভব করে আলিফ লাঈলা যারা তৈরি করে তারা ? শাহনেওয়াজ প্রধান তখন সীনবাদের নাম ভূমিকাতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন ।সিনবাদ হিসাবে তিনিই ছিলেন একেবারে পারফেক্ট । আবার দেখুন এখন সঙ্গীতের কত উন্নত ইন্সট্রুমেন্ট আবিষ্কার হয়েছে ।কিন্তু বর্তমানের এতো উন্নত প্রযুক্তি কি আমাদের একজন জন লেলোন, একজন জীম মরিসন ,মাইকেল জ্যাকসন ,বব মারলে , টমাস এন্ডার্স , রবিশংকর , এসডি বর্মন, কুমার সানু , এন্ড্রু কিশোর , রুনা লায়লা, দিতে পারেনি।আর বিটোভন ও মোজার্ট তো আরো অনেক আগের ।তাদের পর আর নতুন বিটোভন মোজার্ট আসেনি। তানসেন তো মধ্যযুগের কিংবদন্তি। মানুষ এখন অনেক জ্ঞানী ও বিদ্যান কিন্তু একজন হোমার , শেক্সপিয়ার , শরৎ চন্দ্র , রবীন্দ্রনাথ , নজরুল , সত্যজিৎ রায় কিন্তু আর আসেনি। এখন  মানুষ অনেক স্মার্ট হয়েছে কিন্তু নতুন করে একজন নায়করাজ রাজ্জাক বা সালমান শাহর বিকল্প কেউ আসেনি ,ভবিষ্যতেও হয়তো পাবেননা। বর্তমান সিস্টেম এর ভিতর দিয়ে পরবর্তীতে এরকম প্রতিভা পাবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আমি আগেও এক যায়গাতে বলেছি যে মানুষ তার সৃষ্টিলগ্ন থেকে উন্নত, তার কোন অনুন্নত কাল ছিলনা , দিনে দিনে যা হচ্ছে সেটা হল বা মূল কথা হল মানুষ তার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই একটা বেস(base) বা ভিত্তি বা মূলধারা নিয়ে চলে আসছে ,যেটার কোন পরিবর্তন হয়নি আজ পর্যন্ত ।মূলধারা হল মানুষের সভ্যতাতে মানুষ ক্রমশ পূর্বের থেকে পরবর্তী আবিষ্কারকে উন্নত মনে করে , সব কালে সব যুগে মানুষের অসাধ্য বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিছু জিনিস থাকে , আগে মানুষ ডায়রিয়াতে মারা যেত , এখন ক্যানসার এবং এইডস মানুষ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেখেছে , আর পূর্বের থেকে পরবর্তীতে উন্নত হতে হতে এক সময় ধ্বংস হয়ে যায় , এই ধ্বংসের পিছনে থাকে ঘুরে ফিরে হাতে গোনা কয়েকটি কারণ মাত্র , সব সভ্যতা ধ্বংসের পিছনে হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়- জলোচ্ছাস-বন্যা-ভূমিকম্প-অগ্লুৎপাত )আর নয়তো

(৩০৯)

         মানুষের নিজের অসচেতনতা , আর প্রত্যেক সভ্যতা একেকটি শক্তি বা বিজ্ঞান কে আশ্রয় করে উন্নতির  শিখরে উন্নত হয়েছে , এই মহাবিশ্ব অসীম শক্তির আধার , সেই অসংখ্যা অগণিত শক্তির থেকে একটি শক্তি ধরতে বা আবিষ্কার করতে বা আয়ত্ত করতে পারলেই সভ্যতার বিরাট পরিবর্তন হয়ে যায় , কোন যুগে মানুষ ধ্বনি বিজ্ঞান কে আয়ত্ব করেছিল যেটাকে বর্তমানে মন্ত্রতন্ত্র বলে জানি এবং যেটা বর্তমানে অচল হয়ে গিয়েছে , এখন যুগে মানুষ আয়নমণ্ডল এবং বিদ্যুৎ এই দুটো শক্তিকে আয়ত্ত করে সভ্যতার শিখরে উঠেছে , বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস হবার সম্ভাবনা আছে পারমানবিক যুদ্ধ তথা ৩য় বিশ্বযুদ্ধ অথবা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ(ভূমিকম্প বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মাধ্যমে সভ্যতা সমুদ্রের পানির নিচে চলে যাওয়া ) ।আরো একটা জিনিস হলো সব যুগেই দেখবেন সভ্যতার সকল আবিষ্কৃত জিনিস ব্যাবহারের বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সাধারণ জনতা পায়না ।এটাও কোন সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলে সেই সভ্যতার আবিষ্কৃত জিনিস গূলো হারিয়ে যাবারও কারণ।যেমন আপনি আমি ব্যাবহার অনেক কিছু করছি , কিন্তু আজ যদি কোন কারণে মহাযুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায় , তবে তারপরেও আমরা যদি কেউ বেঁচে থাকি তবে আমরা কি সারাদিন সময় কাটানোর অপর  নাম বা সাথী স্মার্টফোন বা মোবাইল , ইন্টারনেট , প্রিয় বাইক এগূলো কি আবার ফিরে পাবো ? আমরা এগূলো ব্যাবহার করতে পারি , ঘন ঘন মডেল পরিবর্তন করতে পারি ।কিন্তু এগূলো কীভাবে তৈরি হয় সেটা কি জানি আমরা ?যদি ও জানি যে কি কি লাগে তারপরেও যদি তৈরি করতে যায় তবে দেখা যাবে সেই যন্ত্রাংশ গূলো তৈরি করতে একেকটি দুর্লভ কেমিক্যাল এর প্রয়োজন , সেই কেমিক্যাল গুলোর আহরণ পদ্ধতিও ভিন্ন , আহরণ বা তৈরি ও জটিল ব্যাপার । তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা হারিয়ে ফেলবো এক মহাসভ্যতা ।তখন আমরা হয়তো পাথরের শিলালিপিতে বা অন্য কোন পদ্ধতিতে লিখে যাবো আমাদের এই আধুনিক মহাসভ্যতার কথা ।তখন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মেরা আমাদের কথা বিশ্বাস করবে, ০৭ পূরুষ  যাবার পর বিশ্বাস ক্ষীণ হয়ে যাবে ।

(৩১০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

1 ping

  1. […] কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০৯+৩১০ […]

Comments have been disabled.

error: Content is protected !!

DMCA.com Protection Status