ধর্ষনের জন্য পোশাক কতটুকু দায়ী ?

আলোচনার শুরুতে বলে রাখি পোষ্টটিকে কোন পোশাকের পক্ষে বিপক্ষে বা কারো মতৈর পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক হিসেবে নেবেন না ।শুধুমাত্র আলোচনা বা নিজস্ব মত ও যুক্তি ।লেখাটি কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা ফেসবুকের কমেন্টে লিখতে পারেন নিঃসংকোচে পক্ষে বিপক্ষে ।

ধর্ষণের জন্য আসলে পোশাক কতটুকু দায়ী এই প্রশ্নটা কিন্তু চিরকাল হট টপিক ।বেশিরভাগই কিন্তু বোরকা বাদ দিলে বাকি সব পোশাককে ধর্ষণের জন্য দায়ী করেন ।এমনকি বোরকাকেও এখন ধর্ষণের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কারণ বোরকাও এখন আর এমন ডিজাইনে বানানো হয়না যে নারী শরীরের গঠন বোঝা যাবেনা।বোরকা পরেও একজন নারী বা কিশোরী লাইকি ,টিকটক বা ফেসবুকে তার দেহ সৌষ্ঠব ভালোভাবেই প্রদর্শন করতে পারছে।

কথা হলো তাহলে নারীর পোশাক কতটুকু দায়ী ধর্ষনের জন্য।প্রশ্নটার উত্তর আমি নিশ্চিতভাবে দিতে পারবোনা।কারণ সবার মত আর চিন্তাভাবনা এক নয়।আমি নিজের মতের প্রতি যতটা শ্রদ্ধাশীল ্ও অন্যের মতের প্রতি ততটা শ্রদ্ধাশীল ।আর নানা মুনির নানা মত ,নানা জনের ভিন্ন চিন্তা যখন এক যায়গাতে মেলে তখন সর্বোত্তম ভাবনাটা বা উপায়টা বেরিয়ে আসে সমাধানের।

তো আসলে ধর্ষণের জন্য আমি পোশাককে যুক্তির আলোকে দায়ী করতে পারিনা ।যদিও পারি সেটা খুব সামান্য।

আসুন পোশাক কেন ধর্ষনের জন্য দায়ী হতে পারেনা সেটা যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করি ।এবং ধরে নেবেন কোন নারীই সেই আমাদের শরীয়ত মোতাবেক ঢিলেঢালা বোরকা পরে নেই ।এখন আলোচনার খাতিরে একেক নারী একেক পোশাক পরে আছেন।

০১)নারী যখন শাড়িতে- আমার দৃষ্টিতে বাঙালি নারীকে শাড়িতে ছাড়া আর কোন কিছুতেই সুন্দর লাগেনা ।একমাত্র শাড়িতেই বাঙালি নারী সর্বোচ্চ সুন্দর।শাড়ির সৌন্দর্যের কাছে থ্রিপিস ,জিনস ,কোর্ট ,বেøজার ,বোরকা হিজাব সব তুচ্ছ।এবং আমার মনে হয় একমাত্র আমাদের বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিম বাংলার বাঙালি মেয়েদের জন্যই শাড়ি নামক পোশাকটির জন্ম ।শাড়িতে আপনাকে মানাতে গেলে আপনাকে অবশ্যই বাঙালি ললনা হতে হবে।সেজন্যই তো বলা হয় শাড়িতে রূপসী যায় ,আমি ফিরে ফিরে চাই ,ঝিলমিল শাড়ি বাড়াইয়াছে তোমার রূপের বাহার ।তো শাড়িতে নারীর দেহ সৌষ্ঠব যতটুকু ফোটে সেটা স্বাভাবিক সৌন্দর্য, দোষণীয় তেমন কিছু সামনে আসেনা যদি না সে নিজ থেকে শরীর প্রদর্শন না করতে চাই।

০২)সালোয়ার কামিজÑ শাড়ির পর সব থেকে বেশি এই পোশাকটা বাঙালি নারীরা পরিধান করেন ।তবে এই পোশাকটি কিশোরী যুবতীদের সব থেকে বেশি মানায় ।৩০+ বয়সের মহিলাদের এটা মানায়না বললে চলে।এরকমটা খাটে লেহেঙ্গা ,ফ্রক ্ও স্কার্ট নামক পোশাকের ক্ষেত্রে।এসব পোশাকগুলোতে বুকে ্ওড়না ঠিকমত থাকলে আর তেমন কোন সমস্যা বা দোষণীয় কিছু চোখে পড়েনা বলেই মনে হয় ।যতটুকু যা মনে হয় এসব পোশাকে তা একজন নারীর সৌন্দর্য অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রষ্ফুটন।

০৩)্ওয়েস্টার্ন পোশাক -্ওয়েস্টার্ন পোশাক বলতে বোঝাই যেটা আমরা পুরুষেরা পরি এই যেমন ধরুন পুরুষের মত জিন্স-টি শার্ট ,বা খেলার জার্সি ,স্যুট ,বেøজার বা কোর্ট প্যান্ট , স্কার্ট ,মিনি স্কার্ট এগুলো আরকি।এগুলোতে নারীরা সত্যিই হট ।তবে এই পোশাকগুলো ্ওয়েস্টার্ণ তথা ইউরোপিয়ান ললনাদের ছাড়া তেমন মানায়না ।আর আমাদের উপমহাদেশীয় মেয়েদের এটা মানাতে গেলে খুব ফর্সা স্কিন সাথে সুপার শার্প আর জিরো ফিগারের দরকার পড়ে।এই পোশাকগুলো বিনা বিতর্কেই নারীর সৌন্দর্যকে পুরো মাত্রাতে প্রকাশ করে।এক নজরেই যে কোন ছেলে এই পোশাকে আসা নারীর প্রতি দূর্বল হতে পারে ।

বিকিনি এটা নিয়ে বেশি কিছু বলবোনা ,এটা নামে মাত্র কাপড়ের টুকরা ,শরীরে থাকা না থাকা সমান কথা ।নারীর দেহ সৌষ্ঠব ১২০% প্রকাশ করে।

তো আসলে কি হলো তাহলে ? একটা নারী যে পোশাকই পরুক না কেন ,তাকে কি ধর্ষন কি বৈধ হয়ে যায় ?ধর্ষন করে তাকে শাস্তি দেবার দায়িত্ব আপনাকে কে দিয়েছে ? তার দিকে বাজে ভাবে তাকানো বা তাকে নিয়ে ভেবে পড়াশোনা থেকে বা কাজে মনযোগ হারানোটা কি বৈধ হয়ে যায় ?

তাহলে পোশাকের দোষ কি? বোরকার কি বিশেষত্ব ? বোরকা যদি শরীয়ত মোতাবেক তৈরি হয় তবে সেটাতে নারীর শরীরের কোন বাকই আপনি বুঝতে পারবেন না । এবং নারী ঘর থেকে তেমন একটা বের হতে পারবেনা ।মানে সহজ একটা হিসাব ,নারী বা পুরুষ ধারে কাছে আসতে পারবেনা ,ফলে কোন ঝমেলা হবার সম্ভাবনা নেই ।

কিন্তু এখন বিশ্বায়ন তথা এমন একটা যুগ যে এ যুগে আপনি পুরুষ হয়ে জন্মালে আপনাকে আত্বনিয়ন্ত্রন আর আত্বসংযম শিখতে হবেই।অনিয়ন্ত্রিত মনের অনিয়ন্ত্রিত কথা আর অনিয়ন্ত্রিত টেস্টোস্টেরন এর ঝড়ে কাত হয়েছেন তো মরেছেন ।ধরুন আপনি সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক মন মানসিকতাতে চলাফেরা করেন ।আপনি না চাইলেও আপনি পথে বের হলে নানা রকম অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা দেখছেন নারীর ।বা আপনি ধরুন পুরো ইসলামিক শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত একটা রাজ্যে বসবাস করছেন।কিন্তু আপনার হাতে রয়েছে স্মার্টফোন ,আপনার কাছে অবারিত নগ্ন নারী দেখার সুযোগ।তাহলে আপনি যদি সংযমী না হন আপনি কিন্তু সমাজের চোখে পরহেজগার মানুষ হয়েও গোপনে জাহান্নামের লাকড়ি বানাচ্ছেন নিজেকে।আপনি যদি শরীয়ত মানেন তাহলে হিসাব ্এটা হচ্ছে যে পোশাক পরেও নগ্ন নারীর যে শাস্তি হবে ,আপনি বার বার তাকানোর কারণে ,একটা মেয়েকে নিয়ে বার বার ভাববার কারণে আপন্ওি জেনার শাস্তি পাবেন ,বিন্দুমাত্র ছাড় পাবেন না বেগানা নারীর ছোট পোশাক বা সাজের দোষ দিয়ে ,মনের বা নফসের অবৈধ চাওয়া পুরনে বাধা দেওয়াটাই বড় জিহাদ।নারী পুরুষ উভয়েরই দৃষ্টিকে সংযত করতে বলা হয়েছে । পুরুষের জন্য ২য় বার বেগানা নারীর দিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত নয় ,এট্ওা বলা হয়েছে। আবার ইসলামিক দেশের মানুষ হয়্ওে আপনি যে কোন প্রয়োজনে খুল্লাম খুল্লা কালচারের দেশে যেতে হতে পারে ।তখন তো নিজেকে সংযম করা ছাড়া উপায় নেই ,আপনার অনিচ্ছাতেই বেপর্দা নারী সামনে এসে যাবে ।

আবার ধরুন আপনি একটা স্কুলের শিক্ষক ,তখন আপনাকেও কিন্তু সবাইকে নিজের মেয়ের মত না ভেবে উপায় নেই ।

এটা ধরলাম ইসলামী শরীয়তের ভিতর চলাচল করা মানুষের কথা ।
এবার যদি ধরি সাধারণ মানুষের কথা যারা আমরা ধার্মিক ছেলে নই তারা কি চাইলেই যে নারীর শরীর পেতে পারেন ?বা আমাদের সাথে স্কুল জীবন থেকে আজ পর্যন্ত যে সব মেয়ে সহপাঠী বা সহকর্মী হয়েছে তারা কি ইচ্ছামত ছেলেদের কাছে নিজেকে সপে দিয়েছে? উত্তরটা হলো মোটেইনা।কারণ প্রেম যৌনতা সবার সাথে সবার হয়না।এখানে কাজ করে লজ্জা ,সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয় আর জড়তা ।স্বাভাবিক ভাবে একজন নারী বা পুরুষ যত সেক্সি বা কামুক হননা কেন,বিপরীত লিঙ্গের সকলের কাছে তিনি ফ্রি বোধ করবেন না নিজেকে ।এছাড়া মানুষের খাবার গ্রহণ ,যৌন কর্ম করবার শারিরীক সামর্র্থ্যেও একটা সীমাবদ্ধতা আছে ।আপনার কাছে ১০ কেজি বিফ বা মাটন দিলে যেমন খেতে পারবেন না ,বা ডেইলি খেলে যেমন একঘেয়ে লাগবে ,তেমনি একজন নারী বা পুরুষের কাছে তার বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে অবারিত মেলামেশার সুযোগ দিলে তিনি অবারিত সেক্স বা যৌন কর্মে মিলিত হতে পারবেন না।আবার মানুষের যৌন কর্মের একটা প্রবল চাহিদার একটা নির্দিষ্ট বয়স আছে ,মানুষের যৌবনকাল সীমাবদ্ধ।তারপর গিয়ে নারী ্ও পুরুষ উভয়েরই একটা যৌন শীতলতা চলে আসে ।তখন তাদের কাছে এসব চাহিদা বা বিপরীত লিঙ্গের সৌন্দর্যের মূল্য থাকেনা।শরীর নানা স্বল্পতায় পতিত হতে থাকে।বর্তমানে আমরা ভাবি ফ্রি মিক্সিং আর অবারিত সেক্সের যুগ আমাদের দেশ বা ইউরোপ কান্ট্রিগুলোতে ,ব্যাপারটা তা নয় ,আমাদের দেশ বা সেখান্ওে কিন্তু জাস্ট বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বেড়ে চলেছে । যার সাথে খুশি তার সাথে মিলিত হবার সুযোগ বিশ্বেও কোন দেশেই নেই ।আপনি যে কান্ট্রিকে ফ্রি সেক্স কান্ট্রি বলছেন সেখানেও আপনি ইচ্ছামত কারো সাথে সেক্সুয়াল সম্পর্ক করতে পারবেন না ।কারণটা হলো আপনি চাইলেই যাকে তাকে আপনার কাম বাসনার কথা জানাতে পারছেন ,বাট আপনার প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেবেন কিনা সেটা ্ওনার ব্যাপার ।এবার আপনি যদি তার সাথে জোর করেও মিলিত হতে চাইলেই তার সাথে মিলিত হতে পারবেন না । সেটা করতে গেলে ফ্রি সেক্স কান্ট্রিতে ধর্ষণের কেস খাবেন। আসলে ফ্রি সেক্স কান্ট্রিতে আপনি পার্টনার নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন কি করছেন সেটা নিয়ে আপনাকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার মত কেউ জেরা করতে পারবেনা বা আটকাতে পারবেনা ,বিয়ে ছাড়াই আপনি যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবেন ।কিন্তু আপনি কাউকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করলে সেখানে সেটা বেআইনি।এমনকি একজন পতিতা না বললে সেটা নাই থাকবে ,মানে নো মিনস নো ।
এখন তাহলে পয়েন্ট কিন্তু এখানে ,পুরুষ মানুষ ধর্ষণ করে কেন বা নারী কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করে কেন ? কারণ যাকে পছন্দ হয়েছে তাকে জোর করে বা যে কোনভাবে পাবার ইচ্ছা। ফলে পোশাক কিন্তু ধর্ষণের জন্য দায়ী হচ্ছেনা একজন ধর্ষকের রূচিতে যদি একজন বোরকা পরিহিতা নারী চোখে ভালো লাগে ,বা একটা মেয়ে শিশুকে ভালো লাগে ,বা পর স্ত্রীকে ভালো লাগে ,এমনকি বৃদ্ধাকে ভালো লাগে তাহলে সে যে কোনভাবে তাকে পেতে চাইবে।তখন জোর করে তাকে ভোগ করে ফেলবে ।এটাকে বলে ধর্ষণ।আসলে আমরা পুরুষেরা অনেক সময় পুরুষ হবার কারণে ধর্ষিতার বিপক্ষে দাড়িয়ে যাই ।ধর্ষিতার পোশাক সাজ উগ্র ছিলো , চলন ভালো না ,নানা কিছু বলে ধর্ষককে বাঁচাতে চেষ্টা করি ।কিন্তু আসলে ভাবুন তো ,আপনি আমি সবাই তো ,প্রবল যৌন ক্ষুধা তো আপনার আমার কম পরিমানে বা বেশি
একেকজনের এককরকম আছে।একেকজনের চয়েজ পছন্দ রুচি একেরকম।সব পুরুষের সব নারীকে পছন্দ হয়না ।তো আপনার প্রচুর ক্ষমতা আছে ,এত ক্ষমতা বা টাকা বা জনবল যে আপনি কোন মেয়েকে ধর্ষণ করলেও আপনার টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারবেনা ।তো ্আপনি কি পারবেন পছন্দেও নারীটিকে ধর্ষণ করতে? আসুন তো একটু কল্পনা করার বা অনুভব করার চেষ্টা করি কাউকে ধর্ষণ করার সময়টি।আপনি একটা নারীকে নির্জনে পেলেন বা সুযোগে পেলেন ,আপনার লজ্জা করছেনা ,আপনি তার সাথে জোর করে মিলিত হচ্ছেন ,তার চিৎকার চেচামেচি আপনি কানে নিচ্ছেন না , আবার আপনি এই গহির্ত কাজটি করে লজ্জা পাচ্ছেন না নারীটির কাছে।্আবার নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন কর্ম অসস্তিকর ।এখন আপনি ভাবুন আপনি কি সুযোগ পেলেও আপনি একজন নারীর কাছে জোর করে এই কাজটি করতে পারবেন ?নারীটির চোখে খারাপ হতে পারবেন ? জানি পারবেন না ,অথচ আপনি কত নারী কল্পনা করে হস্তমৈথুন করেছেন ,গোপনে কত পর্ণ দেখেছেন ,সেই আপনিই সাহস পাচ্ছেন না ,নির্জনে নারীর কাছে লজ্জা পাচ্ছেন।তাহলে বুঝুন ধর্ষক কতটা বেপরোয়া আর অমানবিক? আসলে যৌনতার বিষয়ে নারী পুরুষ উভয়ই বেশকিছুদিনের পরিচিত ,জানা বোঝা মানুষের সান্নিধ্য কামনা করে।্ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডে খুব কম নারী পুরুষই সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।্টাকার বিনিময়ে তথা ্ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডে বিশ্বাসী নারীগুলো আসে টাকার ্অভাবে পেটের দায়ে বা লাক্সারিয়াস লাইফ লিড এর সাথে যৌন ক্ষুধা মেটাতে তথা এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে ।আর পুরুষদের অবশ্য এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়না ,এক পাখিই মারতে হয় । তো এই ্ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডে আসা পুরুষগুলো বেশিরভাগই আসলে নেশাখোর আর সাথে অবৈধ কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক এবং নারীকে পণ্যভাবে যারা ।মানসিক ভাবে সুস্থ উভয় নারী পুরুষই চাইবে যৌনতার জন্য পূর্ব পরিচিত এক অপরকে বোঝে এমন কাউকে ।যেখানে টাকা বা লেনদেনের বিষয়টা অতটা মুখ্য নয় ।

তাহলে বিষয়টা দাড়াচ্ছে যে পোশাক বা ফ্রি মিক্সিং কোনটাই কিন্তু আপনাকে ধর্ষক বানাতে পারছেনা ।দেখুন নৃতাত্তিক উপজাতি থেকে শুরু করে অনেক দেশেই নারীরা খোলামেলা ছোট পোশাক পরে ,সেখানে ধর্ষণহার নেই বললেই চলে । ধর্ষক হতে গেলে আপনাকে হতে হবে আদিম ববর্রও জান্তব বেপরোয়া ।আপনার ভিতর মায়া দয়া প্রেম ভালোবাসা বা লজ্জা ,বিবেক থাকলে আপনি ধর্ষক হতে পারবেন না ,তাই পুরুষ হলেও নির্দ্বিধায় ধর্ষকের বিচার চাই ।তবে এটাও মাথাতে রাখতে হবে অনেক সময় পুরুষকে ফাসাতে ্ও নারীরা ধর্ষণের অভিযোগ করে বসে ।ধরুন দীর্ঘদিনের প্রেম এখন ছেলেটা বিয়ে করতে চাইছেনা ,তারপর ধনী লোকের অনেক টাকা ,টাকার বিনিময়ে আসা নারীও তাকে জালে ফাসাচ্ছে ধর্ষণ কেস দিয়ে । বা পরকীয়া করছে নারী ,স্বামী বা তার বাড়ির লোকের কাছে ধরা খেয়ে তার পার্টনারকে ধর্ষক বানিয়ে দিলো।বা তার বাড়ির কাজের ছেলে বা ড্রাইভার কু প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে ধর্ষক বানিয়ে দিলো ।ধর্ষনের অভিযোগটা কোন ঘটনার থেকে এলো সেট্ওা ভাবতে হবে ।।ধরুন একটা মেয়েকে পথে এক বা একাধিক বখাটে রোজ উত্ত্যক্ত করে ,মেয়েটা পাত্তা দেয়না ,তাই তুলে নিয়ে গিয়ে ক্ষতি করলো , রাতে প্রকৃতির ডাকে বাইরে গিয়েছে ,ধর্ষিত হলো ,প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে দেখা করতে গেলো ,তথাতথিত প্রেমিক কয়েক বন্ধু সহ ধর্ষণ করলো ,কোন শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করলো ,এই রকম ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে চোখ বুঝে ধর্ষণের কঠিনতর বিচার করুন ,বিচার চান ।।

আর তিন বছর প্রেম বা লিভ টুগেদার করার পর ধর্ষণ কেস বানানো মেয়েটি ,কোটিপতির সাথে গরীব মেয়ে একঘরে দুই পাঁচজন আটকেছে এরকম ধর্ষণে ভাবুন ভেজাল ধর্ষণ ,বা দুজন সহপাঠী বা সহকর্মী , বা গায়রে মাহরাম একাকী নির্জনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছে ,সেখানে পুরুষ নিয়ন্ত্রন হারানো বা নারী পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে কিছু হ্ওয়া স্বাভাবিক অনেকাংশে ।এখানে কারো না কারো স্বার্থ জড়িয়ে আছে ্।এই রকম ধর্ষনে ছেলের দোষ দেখছিনা ,এখানে যা দেখছি নারীর স্বার্থ বা লাভ ক্ষতির অংক ।

তাহলে একটা কথা পরিষ্কার হলো যে পোশাক ধর্ষনের জন্য দায়ী নয় ।।আপনি ধরুন ছোট পোশাক পরা মেয়েকে ধর্ষণ করলেন ,আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কেন ধর্ষণ করলেন ?আপনি তো এর বেশি কোন উত্তর দিতে পারবেন না ,যে মেয়েটা ছোট পোশাক পরেছিলো ,তার শরীর দেখে আমি এত উত্তেজিত হয়েছি যে তাকে ভোগ বা জোর জবরদস্তি না করে পারলাম না ।ভাবুন তো হে ধর্ষক এটা ধর্ষণ করার কোন যুক্তি হলোা ?আপনি কি একটা মানুষ ,আপনার কি ঘরে মা বোন বা মেয়ে নেই ?আপনার কি নিজের একটা ধর্মীয় শিক্ষা বা আত্ব নিয়ন্ত্রন নেই ? আপনার কি কোন নারীকে বিয়ে করা ,বা টাকার বিনিময়ে কোন কিছু করা ,বা গার্লফ্রেন্ড বা জাস্টফেন্ড জাতীয় কোন সম্পর্কে জড়ানো সম্ভব ছিলোনা ? নারীদেরও তো খিদে আছে ,আপনি আপনার মত একজনকে খুজে বের করুন ।পেতে সময় লাগবেনা ।

দেখুন এতগুলো পয়েন্টে আমরা কিন্তু কোথাও পোশাকের দোষ পেলাম না ধর্ষণের জন্য ।এটা জাস্ট সমাজের একটা অশিক্ষামূলক মিথ ।একটা ছোট পোশাক বা নারীর উগ্র সাজ পোশাক পুরুষকে উত্তেজিত করে তুলতে পারে ,কিন্তু এটা ধর্ষনের কারণ হতে পারেনা ।পোশাকটা কে বলা চলে খাবারে ব্যবহৃত মসলার সাথে ।মসলা খাবারের অলংকার।একেকটা মসলা খাবারকে একেক রকম সৌরভ আর সুগন্ধ দান করে ।ফলে খাদক বা ভোক্তা সহজেই খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হন ।তেমনি সকল নারী ,শরীর একই রকম।পোশাক ,ফেস আর বাঁচনভঙ্গী দর্শনে তথা লুকে ও ব্যাক্তিত্বে ভিন্নতা প্রদান করে।।তো পোশাকের কারনে যদি আপনি কোন নারীর সাথে বাজে আচরণ করেন তো সে দোষ একান্ত আপনার মানে পুরুষের। কারণ আপনি আত্বনিয়ন্ত্রণ শেখেন নি ।বাসায় খাবার বা টাকা না থাকলে বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু না খেয়ে থাকে ,কিন্তু চুরি ডাকাতির কাছেও যায়না।তেমনি যারা সুপুরুষ তারা বিবাহিত সঙ্গীনি ,সেক্স ওয়ার্কার,বা প্রেমিকা ছাড়া কারো দিকে ফিরেও তাকাবেনা ।।আপনি যে ধর্মের অনুসারী হন না কেন পোশাকের কারণে কোন নারীকে ধর্ষন করে শাস্তি দেবার বৈধতা দেওয়া হয়নি ।।সর্বোচ্চ আপনি বোঝাতে পারেন কোনটা শালীন আর কোনটা অশালীন পোশাক । ধরুন একজন নারী বিকিনি পরে পথে হাটতে বা অফিসে আসতে পারে ,সুসভ্য মানবাধিকারের কথা ধরলে আপনি নারীর এই স্বাধীনতায় বাধা দিতে পারেন না ,তাহলে এবার যদি বলি একজন পুরুষ খালি গায়ে লুঙ্গি মালকোচা তথা কাছা দিয়ে অফিসে গেলে আমরা বাধা দিতে পারিনা ,বা একটা লোক দু হাতে ০৫ টি করে ১০ টি ঘড়ি পরলো সেটা মানানসই নয় ,হাস্যকর ,তেমনি আপনারা যেটাকে অশ্লীল পোশাক বলেন সেটা আমি ১০ টা ঘড়ির মত বেমানান বলি ,ধর্ষণের কারণ বলিনা ।।ধর্ষনের কারণ হলো পুরুষের আত্বনিয়ন্ত্রন না থাকা ,নারীকে সম্মান করতে না শেখা ।।ধরুন আমার বুকভর্তি লোম ,মুখভর্তি খোচা দাঁড়ি ,টি শার্ট ফেটে বলিষ্ঠ ১৭ ইঞ্চি বাইসেপস বেরিয়ে আছে ,এখন কোন সমকামী পুরুষ আমাকে বলাৎকার করলে আপনি বলাৎকার কারী সমকামী ধর্ষকটার দোষ না দিয়ে আমার পোশাকের দোষ দেবেন ?? বিশ্বাস করুন ভাই আপনি যদি শুধু ভাবেন একটা নারী যে পোশাকই পরুক না কেন ,আমি তার শরীরে স্পর্ষ করবোনা ,জোর করে তাকে পাবোনা ,তাহলে আপনার সাথে সারারাত এক রুমে নারী থাকলেও গায়ে হাত দেবেন না ।।এটাই আত্বনিয়ন্ত্রন।আবার সহজে ভাবুন যে আমার না ,যাকে আমি আইন ,সামাজিক চুক্তি বা টাকা দ্বারা কাছে পাবোনা তাকে নিয়ে অযথা কল্পনা করে যৌন উত্তেজনা কেন বাড়াবো ?আমাদের দেশে বেশিরভাগ পুরুষের ও সময়ক্ষেত্রে অনেক নারীরও সমস্যা এটা ,এর ফলে তারা নিজের নাগালে থাকা যৌনসঙ্গীতে সূখী হয়না ।অন্যদিকে আরো একটা ব্যাপার দেখা যায় বোনেরা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি লাইফে কোন ছেলের সাথে প্রেম করলে আপনারা অনেক বলেন বয়ফ্রেন্ড কিস করেনা ,রোম্যান্টিক না ,রুমডেটে যায়না ,ওর মনে হয় সমস্যা আছে ।।আবার অনেক বড়ভাই শিক্ষকেরা বা বড়আপুরা বলেন এই ছেলে তুমি সুন্দরী মেয়েদের দিকে তাকাওনা ,নিশ্চয় তোমার সমস্যা আছে ।।এসব ছেলেদেরকে এক্সট্রা সম্মান দিন ,কারন আপনাদর দৃষ্টিতে সমস্যা থাকা ,রোম্যান্টিক না এসব ছেলেরা পরিবার থেকে নারীকে সম্মান করা শিখেছে ,সে পারতো চোখের দৃষ্টিতে আপনাকে গিলে খেতে ।বাইক আর বাবার টাকার রোমিওর থেকে ওই লাজুক ক্লিন শেভড ছেলেটা বা হুজুর টাইপের দাড়িওয়ালা ছেলেটা মন থেকে আপনাদেরকে অনেক সম্মান করে ।আপনারা হয়তো জানেন না রোমিও প্লেবয় বাইকবয়রা আপনাকে ভোগের জন্য নিজের প্রোপার্টি ভেবে নিরাপত্তা দেয় আর ক্যাফে বা রেস্তোরায় নেয় ,কিন্তু লাজুক বা হুজুর টাইপদের টিউশনির টাকার গিফটের আন্তরিকতা ,বা সারা জীবনের জন্য আপনি কবে তার মেহমান হবেন বা কোথাও আপনাকে তার থেকে কেউ জোর করে ছিনিয়ে নিতে চাইলে কোন কিছু না ভেবেই আপনার সম্মানের জন্য নিজের যে কোন ক্ষতি স্বীকার বা জীবন দিয়ে দেবে।।আর এই লাজুক আনস্মার্ট গুলো যখন বড় কিছু হয় জীবনে আপনার বাবা বা আপনার চয়েজ থাকে এদেরই ।।কিন্তু ততদিনে অনেক কিছুই রোমিওর সাথে শেয়ার করে ফেলেছেন ।এ রকম শতকরা কিছু পরিমাণ মেয়ে আছে যারা নারীর অসম্মানের জন্য অনেকাংশে দায়ী ।। ।আবার বিয়ের আগে আপনার সাথে প্রেম ও বেডশেয়ার করার পর যখন আপনি ও সে অনার্স পাশ করে বের হবেন তখন সে আর বিয়ে করতে চাইবেনা ,তখন তো কেস দেবেন ০৫ বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ।ভাবুন তো আপনার ভিতর কি মজা আর অবশিষ্ট আছে যে সে সারাজীবনের জন্য সঙ্গী করবে ?প্রকৃত ভালোবাসা কি শুধু দেহ দ্বারা হয় ? ।কিন্তু বাধা দেবো কেন ?কারণ এই দুটি পোশাকই কেমন যেন পাবলিক প্লেসে খাপছাড়া বিশৃঙ্খল সভ্যতা পরিপন্থী মনে হচ্ছেনা ?।মানবাধিকার বা পোশাকের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করা বা পরিধান করা নয় ।এটা যদি আপনি দেন তাহলে আপনি তখন খুনী ,নেশাখোর ,ধর্ষক সবাইকে ও তাদের অপরাধকে আপনি স্বাভাবিক বলবেন ।।ঢাকা পোশাক বা খোলামেলা পোশাক কোনটাই খারাপ নয়,দুটোই স্বাভাবিক ,কিন্তু অস্বাভাবিক হলো স্টাইল করতে গিয়ে এমন পোশাক যেটা আর জন্মদিনের পোশাকে কোন পার্থক্য থাকেনা ,যে পোশাক আর গুহাবাসী আদিম মানবের গাছের একটুকরো বাকল পরা পোশাকে কোন পার্থক্য থাকেনা ,এরকম পোশাক অবশ্যই অশালীন ।খোলামেলা পোশাক ,বা আধুনিক পোশাক অবশ্যই পরুন ,কিন্তু দেখুন সেটা যেন গুহামানবের পোশাক না হয়ে যায় । তো মানবের যৌন ক্ষুধা বা যৌনতার প্রয়োজনে একটা সিস্টেমের ভিতর দিয়ে এগোবে ।ধর্ষক কিন্তু সেটা করেনা ,সে হালাল পথে কাজ করে খাবেনা ,হাজারটা কাজের সুযোগ থাকা স্বত্তেও ডাকাতি করেই সে খাবে । যৌনতা একটা সেবা বা পণ্য ,এটা সামাজিক আপস বা অর্থের বিনিময়ে কিনলে বৈধ ,আর বিনা টাকায় বা যৌনতার অধিকারীর অসম্মতিতে নিলে সেটা ধর্ষণ ।হোটেলে যদি হোটেল মালিক খাবার খোলা রেখে সেখানে নাও থাকেন ,পোশাক তথা মশলার সুগন্ধ যদি আপনাকে বিমোহিত ও করে ফেলে তবে সেখান থেকে খাবার চুরি বা লোকলজ্জা ভূলে খাবারের উপর ঝাপিয়ে পড়া বৈধ হয়ে যায়না ।তেমনি একটা মেয়ের পোশাকে বা সাজে বিমোহিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়া বৈধ হয়ে যায়না ।।আমরা সভ্য যুগের সভ্য মানব আমরা কেন পোশাক এর কারনে বা নারীর কথা বা সাজ সজ্জার জন্য ধর্ষন বৈধ বলে ধর্ষকের পক্ষে দাড়াবো ?অন্তত আমাদের দেশে নারীরা সিনেমা বা নাটকে এমন কোন পোশাক পরেনা যেটা ধর্ষনের কারণ হতে পারে । আমরা জানি খাদ্য ,বস্ত্র ,বাসস্থান ,শিক্ষা,চিকিৎসা ০৫ টি মৌলিক চাহিদা ।৬ষ্ঠ অলিখিত মৌলিক চাহিদাটি হলো যৌনতা।অথচ যৌনতার জন্য আমাদের পাঠ্য বইয়ে কোন শিক্ষা নেই ,এটা ট্যাবুর মত ।এটা নিয়ে কথা বললে সে হয়ে যায় খারাপ ।অথচ আমাদের এই শিক্ষাটা একটা সিলেবাস থাকা দরকার ছিলো শুধু মেয়েদের মাসিক হয় ,বাচ্চা হয় আর ছেলেদের বীর্যপাত ,স্বপ্নদোষ হয় ,কনডম না নিলে বাচ্চা হয়ে যায় এরকম সাধারণ ধারণার নাম যৌনশিক্ষা হতে পারেনা ।বরং নারী ্ও পুরুষ পরষ্পর সম্মান করতে শেখা থেকে শুরু করে একজন পুরুষ বা নারী বয়সন্ধিতে কি খাবার খাবে ,কি ব্যায়াম করবে ,নারী পুরুষ অবিবাহিত জীবন তথা বিবাহপূর্ব জীবন কিভাবে কাটাবে , কাকে আর কিভাবে প্রেম ,যৌনতা আর বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হবে , সকল পোশাক আর কর্মকে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী মানেই সুন্দরী ,সুন্দরী মানে নারী আর নারীর গুণ ক্ষমতা কিছু নয়, এই ধারনা থেকে বের করাটা ্ও আর নারীকেও সংসারের অর্থনৈতিক বোঝা টানার উপযোগী করা যৌন শিক্ষার অংশ হ্ওয়া উচিত ছিলো ।নারী দেখলেই সেক্স বস্তু ভাবা যাবেনা এটা ছেলেদের শেখানোটা খুব জরুরী ।ধরুন আপনি একটা ছেলে হয়ে ইচ্ছা করলেই একটা ছেলের প্রাইভেট পার্টে হাত দিতে পারেন না ,সম্পর্কটা সেই পর্যায়ে না গেলে সম্ভব নয় ,হুট করে হারাম এই সমকামে জড়াতে গেলে ছেলে হয়েও দীর্ঘদিনের ছেলে বন্ধুর হাতে চরম মার খাবেন ,সেখানে একটা মেয়ের সাথে দুদিন কথা বলে বা চোখের দেখাতেই কিভাবে ভেবে বসেন কতকিছু ,ফলে বিষয়টা ধর্ষণে পরিণতি পায় ।

তাহলে নারীর বেশি খোলামেলা পোশাক আর উগ্র সাজ পোশাকের দোষ কি ?
কিছুটা দোষ আছে বৈকি ।তা হলো নারী দেহের অতি প্রদর্শন ফ্রি মিক্সিং নারীকে বা নারীর সান্নিধ্যকে অনেকাংশ সহজলভ্য করে দেয় ,যৗনতার আনন্দ কমিয়ে দেয় ।যৌন বিকৃতির জন্ম দিতে পারে । ধরুন আপনি প্রচুর মহিলার সাথে নানা প্রয়োজনে স্বাভাবিক ভাবে মেশেন। আর কথা বলেন ,তাদের প্রতি মন থেকে কোন কুচিন্তা আনেন না ।এতে দেখা যায় অনেক সময় নিজ স্ত্রীর প্রতিও অতটা ফিল কাজ করেনা ,কারন নারী আপনার কাছে উত্তেজনার কারন না এখন সহজেই ,তখন আপনার স্ত্রী পরকীয়াতে জড়াতে পারে ।আর যদি একবার অবাধ মেলামেশার সুযোগ পান তাহলে একসময় আপনি সমকামী শিশুকামী এসব হয়ে উটতে পারেন।মুক্তভাবে নারী পুরুষের মেশার ক্ষেত্রেও যৌনশিক্ষা এটা দরকার যে কার প্রতি যৌন আকর্ষিত হবো আর কার প্রতি হবোনা ।।আধুনিক এই ফ্রি মিক্সিং এ আমাদের মান্ধাতা আমলের ক্ষ্যাত থিওরি মানে নারী আর পুরুষ এক যায়গায় হলেই কাম বাসনা জেগে উঠবে ,এই তত্ব সাবেক আমলের ।কিন্তু এখনকার আধুনিক যুগে নারী পুরুষ ভেদ নেই ,সব সময় নারী পুরুষ সব যায়গাতে এক সাথে কর্মে নিয়োজিত ।।তাই কোন পুরুষ কোন নারীর দিকে বা কোন নারী কোন নারী কোন পুরুষের সামনে হলে ভাবতে হবে তিনি আমার কে যে আকৃষ্ট হবো ।বর্তমান যুগে ভাবতে হবে স্বামী/স্ত্রী বা প্রেমিক প্রেমিকা ছাড়া রাস্তাঘাটে বা কর্মস্থলে সবাই নিরপেক্ষ লিঙ্গ তথা কেউ কাউকে নারী বা পুরুষ না ভেবে জাস্ট মানুষ ভাববেন ।তাহলে যৌন অঘটন হবনা ফ্রি মিক্সিংয়ের মাঝেও ।।সবার প্রতি ক্রাশ খেয়ে নিজের জন্মদাতা পিতামাতা বা বংশের নাম খারাপ খারাপ করবেন না ।
নারীর সাজ পোশাকের অংকটা এমন যে তারা ভালোভাবে সাজে এজন্য যে যাতে পুরুষেরা তাকায় ।কিন্তু নারী হলো গোলাপ ফুল ,তারা গাছেই সুন্দর আর
সুবাসিত ।যখন কোন পুরুষ তাদের সাজ পোশাকে প্রলুব্ধ হয়ে ছুইতে চাইবে তখন কাটা ফুটবে ,অঘটন ঘটবে।সাজ পোশাক গয়নার প্রতি দূর্বলতা নারীর চিরন্তন । নারীকে হয় দূর থেকে দেখে সন্তুষ্ট থাকুন আর না হয় একেবারে গুরুত্ব দেবেন না ,যদি মনে করেন বা নারী পুরুষকে আকৃষ্ট করতে সাজে এই ধারনায় বিশ্বাসী হন।তাহলে দিন দিন নারীরা উগ্র ,কারণছাড়া অপ্রয়োজনীয় সাজ সাজতে নিরুৎসাহিত হবে ।আমরা পুরুষরা গুরুত্ব দিই বলেই তো তারা নানা কায়দার সাজ পোশাক গ্রহণ করে ।নারীর উগ্র সাজ পোশাক ,বাকা চাহনী ,আপনার সাথে হেসে দুটো কথা বলা মানেই এবার আপনার সাথে বিছানায় যাবে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন ।মনে করুন সেই অমোঘ প্রবাদ বাক্য ,নারীর রূপটা দেবীর ,চোখটা ধাধার ,নারীর মন স্বয়ং ভগবান পড়তে পারেন না ,বলে একটা কথার প্রচলন আছে ।নারীর চাহনী আর মুখের হাসি আর বচন হলো লেগ স্পিনারের গুগলির বা মুস্তাফিজের কাটারের মত ।আসবে সোজা অথচ যাবে কোনদিকে এটা বুঝতে গিয়ে কট খেয়ে যেতে পারেন ।অনেক পুরুষই এই ধাঁধায় পড়ে নারীর কাছে লজ্জিত হয়েছেন বা ধর্ষকের তকমা পেয়েছেন ।তো হিডেন রিলেশনে সাবধােন বুঝে শুনে পা ফলে এগোন ।সম্মান গেলে বারে বারে আসেনা । আর একটা কথা হলো আমি পোশাকের এই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী যে যাকে যাতে মানায় ,যে পোশাকে আপনাকে মানাচ্ছেনা ,যে পোশাক পরার মত ফেস ,ফিগার বা সামাজিক অবস্থা বা স্ট্যাটাস আপনার নেই সেটা পরে নিজেকে কদাকার বা হাঁসির পাত্র বানাবেননা ।।কোন পোশাকের সাথে আপনার লুক বেস্ট সেটা পরুন ,প্রত্যেক নারী পুরুষকে বিধাতা আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছেন ,পছন্দের অভিনেতা অভিনেত্রী বা মডেলের অনুকরনে পোশাক নিতে গিয়ে আপনাকে হয়তো আনস্মার্ট বা অশিক্ষিত লাগছে ,অথচ অপছন্দের মডেলের সাজ বা আপনার বিধাতা প্রদত্ত ন্যাচারাল লুকই হয়তো বেস্ট । আপনার চয়েজের পোশাক হতে পারে সেটা দেশী বা ওয়েস্টার্ন অথবা বোরকা বা হিজাব ।পোশাক বা বা ফ্যাশন চয়েজের ক্ষেত্রে ওভার শর্ট পোশাক পরিহার করা উচিত ।কারন ইতিহাসের দাবি অনুযায়ী প্রাগৈতিহাসিক অসভ্য গুহাবাসী মানুষ ছাল বাকল তথা শর্ট পোশাক পরিধান করতো ।লং পোশাক মানুষ সভ্য হবার পর পরতে শেখে । আপনি কোন পোশাকে সাচ্ছন্দ্যেবাধ করেন সেটা আপনার চয়েজ,,যেহেতু আপনার স্ট্যাটাস টাকা সামাজিক প্রচলন রীতিনীতি আপনিই জানেন ।তবে শতকরা ৯০% নারী বা পুরুষকেই শর্ট পোশাকে মানায়না এটাই সত্য ,আর পোশাক ধর্ষনের জন্য দায়ী না এটাও সত্য,ধর্ষনের জন্য দায়ী জাস্ট বর্বর অসুস্থ খুনী মন মানসিকতা ।তাহলে আমার লেখাটার সারমর্ম হলো যে,নারীর পোশাক আর উগ্র সাজ হলো সেক্স স্টিমুল্যান্ট বা যৌন উদ্দীপক ।কিন্তু তার মানে এটা নয় যে আপনি এতে যে কোন নেশাদ্রব্যের মত হুশজ্ঞানহীন হয়ে যান ।নারী চোখের আড়ালে থাকা বা একেবারে তার রূপ না দেখার পোশাক ,বা তারা যদি উগ্র সাজে না সাজতো তাহলে হয়তো আপনার আমার নিজেকে নিয়ন্ত্রন সহজ হতো। আমার মতে এরকমটা হলে পাইনা তাই খাইনা কথার মত ভালো আমি ।পেয়েও খাইনার মত ভালো না হয়ে মজা পাইনা আমি । যে নারীকে ধর্ষণ করার সাহস রাখে সে বোরকাতে পেলেও ছাড়বেনা ।।এটা হলো মানসিকতা আর বর্বর সাহস ।আমি সাপোর্ট করি শালীন মার্জিত যে কোন পোশাককে ,নারীর যে কোন সাজকে ,তবে সাজটা চুলে জট আর এক টুকরো কাপড়ের প্রাগৈতিহাসিক যুগের গুহামানবী না হয় ,হলেও তাকে ধর্ষন করার লাইসেন্স মিলবেনা ,সে চলতেই পারে ,কিন্তু মনে হয় কামহীন পুরুষের চোখেও এই পোষাক মানবসভ্যতার সাথে সাংঘর্ষিক ।। তো যা বলছিলাম রাস্তাঘাটে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষাক্ষেত্রে মিশে নারীকে না ছুতে পারাটাকে আমি পরমপ্রাপ্তি বা প্রকৃত শিক্ষা বলি ।আচ্ছা ভাই আপনার আমার শিক্ষা এত ঠুনকো কেন যে মেয়ে মানুষ দেখলে বা উগ্র সাজে দেখলেই অনুভূতি জাগ্রত হবে ?প্রকৃতিগত এর দোহাই আর এ যুগে চলেনা ,মোম আর আগুন এর থিওরিও অচল এখন ,যদি নারী পুরুষ সহবস্থান নিশ্চিত করতে হয় । ।নারীকে ঘরবন্দী করার চিন্তা করবোনা ,একটু মন শক্ত করে বলুন নারী নিয়ে ভাববোনা ,তাকাবোনা ,সুন্দরী নারী দেখলে যেচে কথা বলবোনা ,দেখবেন পর নারীর প্রতি আকর্ষণ কাজ করবেনা । আমরা পুরুষেরা কিছু কিছু জিনিস স্বপ্নের মত মনে লালন করি ,পাবার ইচ্ছা পোষন করি ।তা হলো টাকা আর সুন্দরী নারী ।কিন্তু এই টাকা আর সুন্দরী নারী শতকরা বা হাজারে একজন পুরুষের হাতে ধরা পড়ে ।তাহলে আমরা অযথা টাকা আর নারী নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করছি কেন ?উপযুক্ত পথে পরিশ্রম না করে ধনী হবার সৌভাগ্য লাভ করতে পারবেন না । আর ধনী না হলে আপসে নারী পাবেন না ।আবার এই যে আপনি ধনী ,আপনার প্রচুর টাকা আছে সেই বলে আপনি যে নারী পাচ্ছেন সেই নারীরা কিন্তু দুঃশ্চরিত্রা ,শুধু টাকার জন্য ভালোবাসার অভিনয় করবে ।তাহলে টাকা আর নারী নামক মরিচীকার পিছনে আপনি ছুটবেন না তখন যখন আপনি মানবেন রুজি আল্লাহর হাতে ,নারী পণ্য নয়।আপনার যত টাকাই থাকুক আর মদের বোতল যত আকর্ষনীয়ই দেখতে হোক একজন নৈতিক শিক্ষাধারী ধনী ব্যাক্তি কিন্তু সেটা ছুয়েও দেখেন না,কারণ আত্বনিয়ন্ত্রন ,তেমনি পরনারীও চরম মাত্রার ক্ষতিকর ,এ রকম ভাবে বুঝলে যত আকর্ষণীয় নারীই দেখবেন না কেন ,মূল্যহীন মনে হবে ।একজন ভদ্র পুরুষ সুন্দরী নারী দেখেন ,কিন্তু তাকে পাবার আশা মরিচীকা মনে করে ভুলে যান যদি আওতার ভিতর ভদ্রভাবে নারীর রাজি খুশিতে কাছে যাবার সুযোগ না থাকে ,,অপরদিকে ধর্ষক কিন্তু চিন্তা করে ওই নারীকে যেভাবে হোক পেতে হবে ,এমনকি ধর্ষন শেষে দরকার হয় মেরে ফেলবে ,নারীর বৈধ বা অবৈধ বা পরকীয়া প্রেমও তার দরকার নেই ,আর তার যুক্তি একটাই আল্লাহ ওকে এত সুন্দর করে বানিয়েছে কেন ?ওকে যেভাবে হোক পেতেই হবে ,না হলে দিনে বা রাতে ঘুম হয়না ,,সভ্য পুরুষ আর ধর্ষক পুরুষের নারীর কাছে পৌছাবার পার্থক্য এটা । আর ধরুন নারীরা সাজ করে পুরুষকে দেখাতে বের হয় ,আপনি আমি তাকালাম না ,গুণী ,বিদুষী নারীকে মুল্য দিন ,যদিও রূপকে চান তবুও আগে সেই নারীর মেধা ও গুণ দেখুন ।আমরা পুরুষরা বিবাহ ,বান্ধবী ,সব ক্ষেত্রে চাই সুন্দরী নারী । দোষটা নারীর নয় ,দোষটা পুরুষের।আমার কথাটা হজম করতে কষ্ট হবে ,কিন্তু একটু এভাবে মানসিকতার পরিবর্তন করুন দেখবেন তখন নারীকে দেখলেই কামনার বস্তু বা মূলবান কিছু মনে হবেনা ।তখন নারীরাও অযথা সাজবেনা , পতিতাও থাকবেনা , শুধু একবার যদি নারীর রূপের আগে মন, গুণ, মেধাকে প্রাধান্য দেন তাহলেই দেখবেন নারী সাজ পোশাক চামড়ার সৌন্দর্য বাদ দিয়ে আপনাকে কাজ দিয়ে আকর্ষন করবে ,নারীরা যেমনটা আরকি পুরুষের রূপে ভোলেনা , যৌন অপরাধ অনেক কমে আসবে তখন ।সব পুরুষই যদি প্রচুর টাকার মালিক হন , তবুও কিন্তু মন মতো সুন্দরী নারী সবাই পাবেনা ,কারন সুন্দরীর সংখ্যা সীমিত শতকরা সর্বোচ্চ ১০ জন ,বাকি ৯০ জন নারী বা পুরুষ এভারেজ/গড়পড়তা ।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন- শেষ কথাটা হলো আমি এতক্ষন যতটুকু বিশ্লেষন করলাম পোশাক ধর্ষনের কারন কিনা সে বিষয়ে, সেটা হলো সুসভ্য স্বশিক্ষিত পুরুষের বা নারীর দৃষ্টিতে, নিরপেক্ষ বিশ্লেষন বা গবেষকের দৃষ্টিতে। ,বাস্তবতা কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুবই বিপদজনক নারীদের জন্য। সাজে ভদ্রতার মুখোশে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা আত্বনিয়ন্ত্রনহীন মানুষেরা পোশাক ,নারীর চলাফেরাকে এত যুক্তির পরও ধর্ষণের কারন বলে ধর্ষকের পক্ষে দাড়াবে ।।সুতরাং সবশেষে বলা চলে ,পোশাক চয়েজ ও সময় অসময়ে বাড়ির বাইরে মেয়েদের বের হবার ও চলাফেরার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্ব্ন করা উচিত ।কারণ আমার লেখা আর সমাজ আকাশ পাতাল পার্থক্য।সমাজে আপনাকে সুন্দর সাজপোশাকে দেখে সবাই আপনাকে মা বোনের দৃষ্টিতে দেখবেনা।তারা ভাববে আপনি জিনস টি শার্ট পরেছেন বা বুকে ওড়না একটু সরে গেছে বা মাথায় কাপড় নেই ,আপনাকে ধর্ষণ বা ইভটিজিং করে রাস্তায় কি পোশাক পরে বের হবেন সে শিক্ষা দেওয়া যায় । আমার লেখার মত সকল পুরুষরা হতো যদি এরকম মানসিক শিক্ষা ব্যবহারিক জীবনে ও পাঠ্যপূস্তকে থাকতো।সঠিক যৌনশিক্ষা পাঠ্যপূস্তকে থাকলে কিশোর কিশোরী বা যুবক যুবতীরা এত প্রেম বা অবৈধ মেলামেশার বা নারী উত্যক্ত বা নারী পুরুষ পরকীয়া থাকতোনা ।সারা পৃথিবীর মানব মানবীরা বা যৌনতাকে তখন মানুষ জীবনের একটা পার্ট মনে করতো ,কিন্তু জীবন মানেই যৌনতা বা জীবন যৌনতাময় ভাবতোনা ,নারী পুরুষের সম্পর্ক মানেই যৌনতা এই ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতো ।। নারী ও পুরুষ দুই জাতির ভিতরই চিরকাল কিছু বিপথগামী লোক থাকবেই ,সেজন্য সাবধানের মার নেই ,সম্পূর্ন মানবজাতি পূর্ণ সভ্য হবেনা,কিছু পুরুষ নারীকে চিরকাল পণ্যই ভাববে ,আর কিছু নারী রূপ ব্যবহার করে পুরুষকে বিপদে ফেলে বা সেচ্ছায় পুরুষের ভোগের বস্তু হয়ে সমাজে উপরের স্থানে আসার চেষ্টা করবে ,কারণ এদের আছে রূপ আর কুৎসিত মন ,যার কারণে অনেক দক্ষ ও মেধাবী নারী ও পুরুষ হতাশ হয়ে পড়ে বঞ্চিত হয় যোগ্য সম্মান থেকে ,এখানে পুরুষের দোষ দিলে চলবেনা ,সারা পৃথিবীতে পতিতাবৃত্তি বন্ধ হয়ে গেলেও কিছু নারী রূপ যৌবন ব্যবহার করতে চাইবে ।নারীকে পণ্য মনে করা পুরুষ ,আর রূপ যৌবন ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠিত হতে চাওয়া নারী দুইই বিপদজনক সমাজের জন্য। যেহেতু আমার লেখার মত মানসিকতা উন্নত হয়নি সমাজের নারীলোভীদের সেহেতু কোথায় কে শেয়াল সেজে আক্রমনের জন্য বসে আছে কে জানে ?।সে জন্য সমাজ যেমন ,সে অনুযায়ী আমাদের সমাজে নারীদের নিজস্ব সাবধানতা অবলম্বন ও নিজেকে রক্ষার কৌশল গ্রহণ বুদ্ধিমানের কাজ ।

error: Content is protected !!

DMCA.com Protection Status