মেহজাবিন আর বিজয় দেবারাকোন্ডার কথা কি ভুল?বাংলা সিনেমা বা উপমহাদেশীয় সিনেমা কেন বিশ্বমানের নয় ?

আসলে সিনেমা হলো কোন অঞ্চলের শিল্প ,সাহিত্য,সংস্কৃতি,সামাজিক অবস্থা আর সেখানকার মানুষ তথা দর্শকের পছন্দ,অপছন্দের প্রতিচ্ছবি। নিত্য জীবনের , ব্যাক্তি জীবনের ,ও অতীত ,বর্তমান ,ভবিষ্যতের বা ইতিহাসের ,বা উপন্যাসের যে কোন ঘটনাপ্রবাহকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী করাকে ফিল্ম বা চলচ্চিত্র বলা চলে।এবার বলুন যে হলিউডের সিনেমা বা অস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো আসলে কি কাহিনী নির্ভর হয় আর আমাদের উপমহাদেশীয় সিনেমাগুলো(ঢালিউড,টালিউড,বলিউড,তামিল তথা ভারতীয় দক্ষিনী সিনেমাগুলো) কি কাহিনী নির্ভর হয়?
আমাদের বাংলা সিনেমাগুলো আমরা ছোটকাল থেকে দেখে আসছি কি কাহিনী ?আমরা দেখছি একটা মাত্র গৎবাধা প্লট।আর তা হলো এই ধরুন একজন গরীবের ছেলে আর একজন ধনীর মেয়ে বা একজন গরীবের মেয়ে আর ধনীর ছেলে পরষ্পরের প্রেমে হাবুডুবু খায়।আর তারপর হয় মেয়ের মা বাবা বা ছেলের মা বাবা এই অসম প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে চাইনা।আর ্ওদিকে আছে ২০ বছর আগে নায়ক বা নায়িকার বাবা বা মাকে হত্যার প্রতিশোধ সিনেমার শেষে।বাংলা সিনেমা জন্মের পর থেকেই এই কাহিনীর ভিতর অদ্যাবধি কমপক্ষে তিন চার দশক এই কাহিনীর ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে।এই কাহিনীগুলো সিনেমার সূচনালগ্নে ভালো সাড়া ফেলেছিলো , কারণ তখন যুগ ছিলো কেবল যাত্রাপালা থেকে শুরু করে টেলিভিশন তথা তৎকালীন মানুষের ভাষায় বলা যাদুর বাক্সেও আগমনের কারনে।কারণ তখন মানুষের কাছে টেলিভিশনের ভিতর মানুষ কথা বলছে ,এটাই আশ্চর্য ছিলো।এরপর কিছু গুণী সুরকার এর সুর ,গুণী গীতিকারের গান,গুণী চলচ্চিত্রকারের সুন্দর কাহিনীর চলচ্চিত্র সব কিছু মিলে তখন সব কিছুই মাস্টারপিস হতে থাকলো।এরপর পৃথিবী তথা সারাবিশ্ব ২০০০ সালে পদার্পন করার পরই খুব দ্রæত বিদ্যুৎ ্ও তথ্য প্রযুক্তি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছাতেই শুরু হয় মানুষের রুচি ্ও জীবনযাত্রার বৈপ্লবিক পরিবর্তন।২০১০ সালের পর থেকে ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন মানুষের হাতে হাতে পৌছাতেই ধাক্কা খায় পুরো চলচ্চিত্র বিনোদন জগৎ।মানুষ একঘেয়ে আর এক কাহিনীর বিনোদন আর সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে বিনোদনের নানা ভেরিয়েশনের ভিতর চলে এলো। এর আগে শুধমাত্র মেমোরি কার্ড আর মোবাইলে মোড়ের দোকানে দোকানে লোড ব্যবসার কারণে কন্ঠশিল্পীদের ব্যবসা তথা অড্ওি ইন্ডাস্ট্রি শেষ।অবশ্য আমাদের কন্ঠশিল্পীদের গান চিরকালই ভালো,কন্ঠশিল্পীদের পতনে কন্ঠশিল্পীদের দোষ নেই।ইন্টারনেট তথা ্ওপেন সোর্সেও যুগে নিজ শৈল্পিক সৃষ্টিকে আটকে রাখার পথ তখন মোটেই ছিলোনা তাই এই সমস্যা ।এখন অবশ্য ইউটিউব চ্যানেলের কল্যানে মিউজিক বা ড্রামা বা যে কোন ইউনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কিছুটা লাভবান হচ্ছেন।এবার দেখা গেলো মানুষ বাংলা সিনেমার সেই গৎবাধা কাহিনীতে মজা পাচ্ছেনা।যা একটু মজা পেতো বাংলা সিনেমাতে সেটাও নষ্ট হলো যুগ অনুযায়ী হলের পরিবেশ আপডেট না হ্ওয়া,কালে কালে জন্মিলে মরিতে হইবে এই অমোঘ সত্য কে স¦ীকার করে প্রখ্যাত অভিনেতা ,সুরকার ,গীতিকারদের পৃথিবী থেকে বিদায়ের কারনে এবং এনাদের যোগ্য উত্তরসূরী তৈরি না হ্ওয়ায় বাংলা সিনেমা আর বিনোদন জগতের শৈল্পিক সৃষ্টি গুলোর মান পড়তে থাকলো।মাঝে মাঝে কদাচিৎ শতকরা দু একটা কাজ ভালো হয়ে আজো জানান দিয়ে যায় এক সময় আমাদেও সুদিন ছিলো,একসময় আমর্ওা সেরা ছিলাম।টোটালি এসব কাজের কারণে বাংলার বিনোদন জগতে ধ্বস নামলো।সাথে বিভিন্ন দেশের সিনেমার কাহিনী থেকে কপিবাজি ,্্ওভার ্ওয়েট অপরিচিত অভিনেত্রীদের কাটপিছ অশ্লীলতা তো আছেই।সেক্সুয়াল বা অন্তরঙ্গতা আর যৌন দৃশ্য ব্যবহার হলো একশ্রেণীর কুরুচিপূর্ণ দর্শকের জন্য। কিন্তু যৌনতা যে শুধু উষ্ণ ভাবে না এনে শীতল ও শৈল্পিকভাবে উপস্খাপন করা যায় সেটা কিন্তু কেউ করে দেখাতে পারলেন না ,হলিউড সেটা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়েছে , ধরুন টাইটানিক এ কিছু দৃশ্য সেরকম।মোটামুটি আমাদের পাশের দেশ ভারতে বিশ্বজোড়া খ্যাতি আনা বলিউড ্ও টিকে আছে শেষ নিশ্বাস পড়ে পড়ে ভাব নিয়ে।উদীয়মান সিনেমা জগৎ হিসেবে আছে ভারতের দক্ষিনী সিনেমা।কিন্তু দেখুন এই আমাদের বাংলা সিনেমা বলি আর বলিউড বলি আর ভারতের সাউথ এর সিনেমা বলি আর কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গেও সিনেমা বলি সব সিনেমার কাহিনী হলো সেই গৎবাধা দুই পরিবারের প্রেম মানা না মানা , আর সিনেমার সবখানে আর সবশেষে ভিলেনকে মেরে তুলার মত মোলায়েম করে ফেলা।মাঝে মাঝে ভিলেনের দ্বারা কিছু খুন আর ধর্ষন।এখন মানুষ সারা বিশ্বের নানা রকম বিনোদন দেখে আর মানুষ অনেক শিক্ষিত আর সচেতন ।মানুষ এখন নতুন কিছু চায় ,গল্পে আর কাহিনীতে নতুনত্ব আর টুইস্ট চায়।যেটা আমাদের উপমহাদেশের সিনেমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।আমাদের জীবন থেকে নেওয়া ,হাজার বছর ধরে আর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ,আয়নাবাজি বাদ দিলে আর কিছু নেই বলা চলে।আসলে আমার বয়স অল্প আর জ্ঞান খুবই স্বল্প।ফলে অনেক ভালো কাজের নাম বলতে পারছিনা ।

এখন কথা হলো ,আমাদের কি ঐতিহাসিক কাহিনীর কি একটা ব্রেভ হার্ট বা ট্রয় বা ৩০০ বা গ্ল্যাডিয়েটর এর মত সিনেমা আছে ? আমাদের কি টাইটানিক ,বা হরর বা সাই ফাই(sci fi) ,বা সুলতান সুলেমান বা দিরিলিস ওসমানের মত সিরিয়াল আছে ? আমাদের মহিলা দর্শকদের রুচি ঘরে ঘরে বউ শ্বাশুড়ির কুটনামিতে সীমাবদ্ধ আছে ।এত নারী শিক্ষা নারী প্রগতি অথচ বাংলা সিরিয়ালের পারিবারিক সহিংস আর হিংসাত্বক কাহিনীর এত নারী দর্শক !! একটা পোগ্রামের টিআরপি (Telivision Rating Point )প্রমাণ করে সেখানকার বা সে অঞ্চলের মানুষের রুচি।তাহলে এই যে সেমি পর্ণো সিনেমা ,আর ফুল পর্ণো সিনেমা আর নারী মনে হিংসার বীজ বপন করা সিরিয়িালের থেকে কিভাবে পরিত্রাণ প্ওায়া যেতে পারে ।এর জন্য দায়ী কে ? পরিচালক রা ? না কি দর্শক রা ? পরিচালক দোষ দেন দর্শকের ,আর দর্শক দোষ দেন পরিচালকের ।আমি মনে করি দোষ দর্শকের ।আপনি আমি প্রচুর পর্ণোগ্রাফি ব্যাক্তিগত ডিভাইসে দেখে এসে ফেসবুকে সানি লিয়নের বাংলাদেশে আসার খবরে হায় হায় দেশ গেলো ,ইসলাম গেলো বলে কমেন্টেস করি ।মানছি এই কমেন্ট করার লোকের ভিতর কিছু লোক রিয়েলি ভালো থাকতে পারেন ,যারা সম্পূর্ণভাবে পর্ণোগ্রাফির নেশা থেকে মুক্ত ।কিন্তু এই কমেন্টকারীদের ৯০ ভাগই বলা চলে পর্ণোগ্রাফী দেখে এসে জ্ঞান দিচ্ছেন ।আচ্ছা আপনি আমি সানি লিয়নের পর্ণোগ্রাফী না দেখলে ,তাদের ভিডিওতে কোটি কোটি ,বিলিয়ন বিলিয়ন ভিউ না দিলে আজ উনি সানি লিয়ন হতে পারতেন না ,এই ভিউয়ার্স গুলো তো জ্বীনও না শয়তান্ও না ,আপনার আমার মত বিভিন্ন দেশের মানুষ।আর ০৫ জন দেহপসারিণীর মত লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যেতেন তো সানি লিয়নকে তো সানি লিয়ন বানিয়েছি আমরা ।কথা হলো মানবজাতির সভ্যতার খাতিরেও পর্ণোগ্রাফী বন্ধ করতে হবে ,মাদক সিগারেট বন্ধ করতে হবে ।কিন্তু আমি সিগারেট কোম্পানির দোষ দেবোনা ,আমি সানি ল্ওিনের দোষ দেবোনা ।আমি মাথাব্যাথার জন্য মাথা কাটার পক্ষপাতি নই ,না থাকবে বাঁশ না বাঁজবে বাঁশি প্রবাদে বিশ্বাসী নই।আমি যদি খারাপ হবার জিনিস পাবার সুযোগের অভাবে ভালো থাকি তবে আমি কি প্রকৃত ঈমানদার? ।আমি আপনি যখন সিগারেট খাবোনা তখন সিগারেট কোম্পানি এমনিতেই ব্যবসা গোটাবে ,তামাকের চাষ বন্ধ হবে , আপনি আমি পর্ণো দেখা বাদ দিলে কেউ হয়তো পর্ণো তারকা হবেনা ।আপনি আমি কোটিপতি হয়ে যদি সুন্দরী নারী পাত্তা না দিই ,ফ্ল্যাট গাড়ি বাড়ির বিনিময়ে কোন সুন্দরীকে পেতে না চাই তাহলে তো আর কোন মেধাবী নারীর প্রতিভা দুশ্চরিত্রের নারীর কাছে হেরে যেতোনা ,কোন পরিশ্রমী পুরুষ এরকম নারীর কাছে হারতোনা। আমরা সমাজের মানুষেরা এমন যে আমি মদ খাই সে দোষ মদ কোম্পানির ,তারা মদ না বানালেতো খেতাম না , আমি সিগারেট খাই সিগারেট কোম্পানি সিগারেট বানাই তাই ।আমি পর্ণো দেখতাম না যদি কেউ পর্ণো না বানাতো ,আমি ব্যাভিচার জেনা করতাম না যদি কলগার্ল বা পতিতালয় না থাকতো।আমার যেনা ব্যাভিচারের দোষ পতিতালয়ের।আচ্ছা অপরাধবোধ,বিবেক ,আত্বসংযম বলে কি কিছু নেই আমাদের ? নরওয়েতে জেলখানা বন্ধ হয়ে যায় অপরাধীর অভাবে ।আমাদের মত পুলিশের ভয় ,বা জেল ,ফাঁসির ভয় দেখিয়ে অপরাধ থামিয়ে রাখতে হয়না । পুলিশ সামনে দাড়িয়ে যতক্ষন ততক্ষন আমরা ইনোসেন্ট আর কাছ থেকে সরলেই অপরাধ শুরু ? আচ্ছা ধরুন আগামীকাল থেকে সব মদ বিড়ি কোম্পানি ,পর্ণো ইন্ডাস্ট্রি ,পতিতালয় বন্ধ করা হলো ।তাতে কি পৃথিবীর সকল নারী পুরুষ সদগুরু বাবা ,আর সাধুগুরুদের মা হয়ে যাবে ? মোটেই না।মানুষ বিড়ির পরিবর্তে হুকা টানতো এক সময় ,এক সময় রাজা বাদশাদের নারী ভর্তি হেরেম ছিলো ,এমনকি সাধারন মানুষদের একাধিক স্ত্রী থাকতো ,দাসী ,দাস বিক্রি হতো , অশ্লীল কবিতা সাহিত্য রচিত হতো , মানুষ ঘরে তৈরি মদ খেতো ।তখন কোন পর্ণোগ্রাফী ইন্ডাস্ট্রি ছিলো ? তখন কোন সানি ল্ওিন সুড়সুড়ি দিতো ? ,কোন বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডের মদ ,সিগারেট কোম্পানি ছিলো ?হযরত লূত আঃ সময় কি করে প্রচুর সমকামী ছিলো ? আসলে মানুষ তার প্রবৃত্তি অনুযায়ী খারাপ হবেই । আপনি যদি মদ না খান ,সিগারেট না খান তাহলে একদিন এমনিতেই তো মাদকের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়,আপনাকে কি কেউ জোর করে মাদক গ্রহণ করাবে ?নারী ভোগ করাবে? ।আপনি আমি যদি পর্নো আর অশ্লীল সিনেমা না দেখি তাহলে কেউ কি আমাদের জোর করে দেখাবে ,পরিচালক কি জোর করে দেখাতে পারবেন আমাদের ? যখন একজন পরিচালক ভালো মানের সিনেমা তথা উপন্যাস বা আখ্যান নির্ভর সিনেমা বানান তখন কিন্তু আমরাই দেখিনা ,পরিচালকের শ্যুটিং খরচই ওঠেনা।ফলে তিনি পরেরবার থেকে গরম মসলা তৈরি করতে থাকেন। আবার উপন্যাস নির্ভর সামাজিক সিনেমা বানালেই যে সেটা চলবে তা কিন্তু নয় ।উদাহরণ প্রসঙ্গে বলি ধরুন ফেলুদা ,বা শার্লক হোমস বা বিশ্ব ক্ল্যাসিক ,হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী যতটা চলবে ততটা কিন্তু অনেক কিছু চলবে না ।আমরা কি সক্রেটিস ,প্লেটো ,এরিস্টটল বা ইবনে সিনা ,বা আলেকজান্ডারের কাহিনী বা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জীবনী নিয়ে নির্মিত কিছুর জন্য সিনেমা হল হাউসফুল করার মত সমঝদার ,বা সাইন্স ফিকশন নিয়ে নির্মিত সিনেমার সাইন্স বোঝার মত মগজ আমাদের কি আছে? বা এগুলো কদর করার মত সমঝদার হতে পেরেছি ?ইউরোপের মানুষ এসবের সমঝদার বলেই তাদের ্ওখানে এরকম কাহিনীর সিনেমা পরিচালকরা নির্মাণ করেন সেজন্য সেখানে স্টিফেন স্পিলবার্গ বা জেমস ক্যামেরন তৈরি হয় ।

পরিচালকের ও প্রযোজক এর বউ বাচ্চা আছে ,তিনি হয়তো বাবার টাকা বা নিজের উপার্জিত টাকা নিয়ে সিনেমায় এসেছেন ।এখন যে দেশের দর্শক যেটা খাইনা সেটা পরিবেশন করে তিনি তো আর ফকির হতে চাইবেন না ।আমরা শুদ্ধ না হলে তিনি পুজি বাঁচাতে এগুলো করে যাবেন এটাই স্বাভাবিক । মানুষ কমবেশি রুচি পরিবর্তন স্বল্প পরিসরে শুরু করেছে বলেই আমরা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে আমরা ব্যাতিক্রমী কাহিনীর ভালো ভালো বাংলা ওয়েব সিরিজ আর ফেসবুকে শর্টফিল্ম পাচ্ছি।এটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক বিনোদন জগতের আমাদের সভ্য আর উন্নত হয়ে ওঠার ধাপে ।

সবশেষে আসি জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন আর ভারতের দক্ষিনী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবারাকোন্ডার সমান একটা উক্তির প্রসঙ্গে।দুজনেই মন্তব্য করেছেন তারা সুযোগ পেলে হলিউডের থেকে ভালো করতেন।আমি এ উক্তির সাথে একমত কিছু শর্তে ।তিনটা উদাহরণ দিই ধরুন আমির খান ওনার লগান বা মঙ্গল পান্ডে বা বিভিন্ন সিনেমার জন্য চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে তৈরি করেছিলেন।মঙ্গল পান্ডে সিনেমার জন্য উনি নিজেই কয়েকমাস দাঁড়ি ন্যাচারালি রেখে অনেক লম্বা করে শ্যুট এ নেমেছেন ।দঙ্গল এর জন্য ওনার বাড়িয়েছেন ন্যাচারালি ,গজিনির জন্য ন্যাচারালি মাসকুলার হয়েছেন ,বছরে সিনেমা করেন একটা ,মন প্রাণ ঢেলে দেন কাজে ,কারণ যা পারিশ্রমিক পান ০৫ বছর বসে খেতে পারবেন ,চাইলে নতুন কোন ব্যবসায় ইনভেস্ট করে নতুন আয়ের পথ্ও তৈরি করতে পারবেন ,এটা কি আমাদের সম্ভব?হয়তো সম্ভব হবে যদি বাংলাদেশী কেউ হলিউডের সিনেমা তে কাজ করতে পারে বিগ বাজেটে ।ড্যানিয়েল ডে লুইস ওনার মাই লেফট ফুট সিনেমার জন্য হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেছেন শ্যুট এর আগে ০৬ মাস ।আবার লস্ট অফ দ্যা মোহিকানস এর জন্য বিলুপ্ত একটা উপজাতীয় ভাষা শিখতে হয়েছিলো।তো ওনারা পারেন আমরা পারিনা কেন ? এর কারণ হলো প্রথমে যদি ধরি আমাদের পারিশ্রমিক কাজ প্রতি কত ? বর্তমান যুগে একটু গর্জিয়াস লাইফ লিড করতে গেলে একটা সেলিব্রিটি পর্যায়ের মানুষের যদি কোন নেশা না থাকে তব্ওু কমপক্ষে ০১ লক্ষ টাকার দরকার ।তো তিনি যদি বছরে ০১ টা কাজ করেন ওনার সংসার চলবেনা ,ফলে উনি কি করে একটা চরিত্রের জন্য ০৬ মাস দাঁড়ি রাখবেন?আমাদের সিনেমার বাজার বা পারিশ্রমিক কি ০১ বছর বসে বসে একটা কাজে মন প্রাণ শরীর উজাড় করার উপযোগী ? ।ওনারা একটা সিনেমাতে যা পান সেটা দিয়ে সারাজীবনের ডালভাতের ব্যবস্থা হয়ে যায় ।২য় কারণ পূর্বেই বলেছি আমাদের সেই গরীবের ছেলে আর ধনীর মেয়ে মার্কা কাহিনী। ৩য় কারন হলো আমাদের কি লিওনার্দো ডি ক্যাপরিও ,কেট উইন্সলেট ,সিলভেস্টার স্ট্যালোন , ড্যানিয়েল ডে লুইস ,ব্রুস উইলিস ,নিকোলাস কেজ , শাহরুখ ,সালমান ,খান ,হৃত্বিক ,ক্যাটরিনার মত গর্জিয়াস লুক আছে ? ।কালো চামড়া হলেও উইল স্মিথ বা ওয়াইসলি স্নিপ্স এর মত গর্জিয়াস লুক আছে কি?,গর্জিয়াস ডায়ালগ ডেলিভারি আছে ? এই কারণগুলো যদি অতিক্রম করা যেতো তাহলে অবশ্যই মান উন্নত হতো ।হয়তো এরকমটা মেহজাবিন বা দেবারাকোন্ডা কে দিয়ে হয়তো এটা না হতে পারে ,কিন্তু উপরোক্ত সুত্রগুলো ব্যবহার করতে হতে পারে। ৪র্থ কারণ হলো এখনো মারপিটে দড়িবাধা ভিএফএ্ক্স যেটা এখন যে কোন টিকটকাররাও তার মোবাইলের সফট্ওয়্যার দিয়ে করে যেতে পারে।তো এরকম আলিফ লায়লা লেভেলের ভিএফএক্স(visual effects) কি গ্রহণযোগ্য এ যুগে?

৫ম কারণ অনেকে বলেন আমাদের সিনেমা হলের বাজার ছোট ।এটা লেইম যুক্তি ।বর্তমান যুগে কনটেন্ট ভালো হলে নেটফ্লিক্স ,অ্যামাজন প্রাইম এর মত অনেক পথ আছে। দরকার শুধু ভালো কিছু কন্টেন্ট তৈরি করে অবস্থান তৈরি করা।কারণটা হলো আগের যুগের মত সিনেমার কাহিনীর সিনেমা তৈরি এখনকার যুগে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোয়নি সেসব বাচ্চারা বা কিশোরেরা তাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে শ্যুট করে ফেলে।এখন আপনিই বলুন যে কাজ দর্শক মোবাইল দিয়ে করে ফেলে সেটা কি জন্য দেখবে আর আপনাকে নামী পরিচালকই বা বলবে কেন ? যুগ পাল্টেছে ,এটা ভাবুন , ব্যাতিক্রম কিছু করুন , রকেটের যুগে গরুর গাড়িতে চড়ে এগোনো যাবেনা। আমাদের কি তামিল নায়ক সুরিয়ার মালান সিনেমার মত একট মোটিভেশনাল সিনেমা আছে ?এ যুগে যে এরকম ভেরিয়েশন চাই দর্শক ।

তবেই না মেহজাবিন বা দেবারাকোন্ডা হলিউড কাপাতে পারবেন ।শূভকামনা মেহজাবিন আপুর প্রতি, কারণ উনি খারাপ বলেননি ,আমরা বাঙালিরা পারি ট্রল করতে পারি শুধু ,নিজের দেশকে ট্রল করতে পারি শুধু ,নিজের দেশের কেউ কিছু বললে ট্রল করি ।একসময় আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় নিয়ে কত হতাশা প্রকাশ করতাম ,বলতাম বাইরের দেশের অমুকের নখের সমান খেলোয়াড় আমাদের হবেনা,কিন্তু আজ আমাদের শাকিব আল হাসান হয়েছে ,তাসকিন ,মাশরাফি ,মুস্তাফিজ হয়েছে।ডাঃ তাসনিম জারা কেমব্রিজ এর ক্লিনিক্যাল সুপারভাইজার হয়েছেন। ২০১৩ সালে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত  আন্তর্জাতিক কেরাত প্রতিযোগিতায় ৮৬টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেন হাফেজ নাজমুস সাকিব ।এছাড়া অসংখ্যা বাঙালি বংশদ্ভূত অনেক গবেষক আর মেধাবী মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জল করছে ,ব্রিটেনে জনপ্রতিনিধি অনেক বাঙালিই আছেন। হয়তো একদিন মেহজাবিন আপু বা বিজয় দেবারাকোন্ডার কথা যথাক্রমে বাঙালিরা ও ভারতীয়রা মনে করবে ওনাদের কথা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে।হয়তো সালমান শাহ থাকলে হলেও হতে পারতো ,এতদিনে বাংলাদেশীরা পেতে পারতো বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক সিনে তারকা ।আবার প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে তাতে বিনোদনের সঙ্গা পরিবর্তন হতে পারে ,সিনেমা জগৎ এর ধরণ চেন্জ হতে পারে ,আবার পরিবর্ন এমন হতে পারে ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার আর সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মানুষ তার চয়েজ অনুযায়ী কাস্টমাইজ সিনেমা তৈরি করে দেখবে ।বাস্তবের সিনেমা জগৎ বা অভিনেতার দরকার পড়বেনা ।যাত্রাপালা থেকে সিনেমা হল আর এখন ইউটিউব থেকে নেটফ্লিক্স আর সোশ্যাল মিডিয়া ।। তবে পরিবর্তন যাই হোক বিশ্বের শিল্প সাহিত্যের জাতিগত RANKING থাকবে ।। আমি ট্রলে বিশ্বাসী না ,মানুষকে ছোট করাতে বিশ্বাসী না ,দেশ নিয়ে হতাশ নই ।আমি আশাবাদী ,তবে অবশ্যই সেটা মুখের কথায় নয় ,উন্নত কাজ করতে হবে ,কাজ করতে হবে ,আশা আর স্বপ্ন অনুযায়ী কাজ ।  

আমরা হলিউডের অভিনেতাদেরও চ্যালেঞ্জ করতে পারি: মেহজাবিন (samakal.com) 

টাইসনের ঘুষি খেয়েও আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম: বিজয় দেবারাকোন্ডা | প্রথম আলো (prothomalo.com)

  

error: Content is protected !!

DMCA.com Protection Status