ভয়ংকর নারী ?পুরুষ ?

নারী শব্দটি শুনলে আমাদের মনের মানসে  ভেসে ওঠে সুন্দরী, কোমল, মায়াময়, মোহময় এক ভালোলাগার প্রতিমূর্তি।কথাগুলো চিরাচরিত সত্য।অধিকাংশ নারী মাত্রই স্নেহময়ী,মমতাময়ী,কোমল।কিন্তু এই লেখাটি আউট অফ রুল শতকরা কিছু নারী আর কিছু পুরুষকে নিয়ে লেখা।এই সংখ্যাটা ধরি আনুমানিক শতকরা ০৫ জন পুরুষ,শতকরা ০৫ জন নারী।

নারী মানেই নির্দোষ, নিরীহ একটা ক্যারেক্টার।।

আসলে কি এগুলো সত্যি?  নারী সম্বন্ধে আমাদের চিরাচরিত এসব ধারণা কি সঠিক?

শুধু পুরুষই কি নিষ্ঠুরতা, ধবংশ, অন্যায় আর আগ্রাসনের প্রতীক? না কি সুযোগের অভাবে নারী পুরুষের মত আগ্রাসী হতে পারেনি?

এর উত্তর খুজতে হলে শুরু করা যাক সেই প্রারম্ভিক যুগ থেকে। যখন মানুষ তার সভ্যতার সুচনা করেছিল।   স্বাভাবিক ভাবে বা সহজ কথাতে কারণ বলতে গেলে বলা যায় তখন যুগে মুলত মানুষের অর্থনীতি , খাবার বা উপার্জন এর ব্যাপারটা ছিল কৃষি, শিকার ও যুদ্ধ নির্ভর।যে কাজ গুলোর সবগুলো ছিলো মুলত শারিরীক শক্তি নির্ভর।মানসিক ও শারিরীক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করেই পুরুষকে এসব কাজের ভার দেওয়া হলো। আর নারীর গর্ভধারণ, ঋতুস্রাব, শারিরীক কোমলতার প্রকৃতি প্রদত্ত বৈচিত্র্যতার কারণে নারীকে দায়িত্ব দেওয়া হলো গৃহ সামলানোর জন্য। পুরুষ বাইরে থেকে শিকার করে হোক আর মাঠ বন থেকে ফলমুল সংগ্রহ করে হোক খাবার আনতো। আর নারী সেগুলোর কাটা ছাটা প্রক্রিয়াকরণ খাবার উপযোগী করা তথা রান্না, বাচ্চা জন্মদান, লালন পালন, গৃহপালিত পশু পাখি পালন এগুলোর কাজ করতো। এভাবে নারী হয়ে গেলো গৃহবন্দী। কিন্তু যুগ যত বদলাতে লাগলো, মানব সভ্যতা আধুনিক হতে থাকলো ততই শারিরীক শক্তি সামর্থ্যের প্রশ্ন বদল হয়ে আস্তে আস্তে বুদ্ধিবৃত্তিক তথা মস্তিষ্ক নির্ভর পেশা ও সমাজ ব্যবস্থা চালু হতে শুরু করলো। বর্তমান বিশ্বে তো শারিরীক সামর্থ্যের কাজ নেই বললেই চলে। সব পেশা ও উপার্জনের পথই জ্ঞান ও মস্তিষ্ক নির্ভর। এদিকে মানুষও বুঝতে শুরু করলো অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে প্রাচীন যুগের মত ঘরে বসিয়ে রাখলেই সেটা মানবজাতির জন্য ক্ষতির। এই ক্ষতিটা শিক্ষা, অর্থনীতি সব দিকেই।আর আসলে শারিরীক গঠনে নারী পুরুষ একটু ভিন্ন। শুধু বুকের গঠন আর লিঙ্গের স্থানে ভিন্নতা ছাড়া নারী পুরুষে তেমন কোন পার্থক্য নেই।শারিরীক শক্তি ,বিদ্যা বুদ্ধি ,সৌন্দর্য সব যায়গাতে নারী পুরুষ সমান। ফলে মস্তিষ্ক নির্ভর শ্রমের এই যুগে নারীকে ঘর থেকে বের করার জন্য মুলত পুরুষরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেন। সম্রাট নেপোলিয়ন বললেন আমাকে শিক্ষিত মা দাও, তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।রাজা রামমোহন রায় উইলিয়াম বেন্টিংক সতীদাহ রোধ করলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানও কম নয়।।বেগম রোকেয়াকে ভাই ইব্রাহিম ও স্বামী সাখাওয়াত হোসেন সমানে সমর্থন জোগালেন। ফলে ভারতবর্ষে নারী শিক্ষার জাগরণ সৃষ্টি হলো।।শারিরীক শক্তির দিক থেকে নারী পুরুষের তুলনায় একটু দুর্বল হলেও জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সেনাবাহিনী, বৈমানিক, ডাক্তার, শিক্ষিকা, উকিল, দোকানদার কোথায় নেই নারী ।সব খানেই নারীরা তাদের যোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন তারা পুরুষের থেকে কোন অংশে কম নন বিদ্যা, বুদ্ধি, কর্মদক্ষতায়। নারী উন্নয়নের অগ্রণী এসব নারীদের যোগ্যতার প্রমাণ দেখে নারী সম্বন্ধে পুরুষের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে।এখন কন্যাসন্তান হলে কারো মন খারাপ হয়না। ঘরে ঘরে কন্যা সন্তানেরা সমান খাবার পোশাক ও শিক্ষার আলো পাচ্ছে। মা বাবারা ভালো করেই জানেন শিক্ষার বা কর্মের সুযোগ দিলেই আমার মেয়েও ছেলের মত সমান উপার্জন করবে। আমাকে বার্ধক্যে দেখাশোনা করবে। মুলত লেখার এ পর্যন্ত পুরুষ বা নারী কারো সমস্যা নেই আমি জানি। প্রত্যেক সুসভ্য নারী বা পুরুষ মাত্রই নারীর এই অর্জনকে সাধুবাদ জানাবেন।নারীর পড়াশুনা বা কর্ম নিয়ে কারো আপত্তি নেই আমি জানি, কারো আপত্তি থাকার কথাও নয়।কারন নারীও মানুষ। পুরুষ মানুষের সমান একটা মানুষ।

কিন্তু সমস্যার শুরু হয় অন্য যায়গা থেকে। সমস্যাটা কোথায় তাহলে বলা শুরু করি।সমাজে ১০০ জন ছেলে থাকলে তাকে তার মা বাবা শিক্ষার সুযোগ দিলে সব ছেলে কিন্ত ভালো চাকুরিজীবী হয়না, মানুষের মত মানুষ হয়না।একটা ক্লাসের ১০০ ছাত্রের ভিতর ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,পাইলট, বিসিএস ক্যাডার, বা ছোটখাটো পেশাজীবি চাকরিজীবি যেমন হয় এর ভিতর থেকে কেউ কেউ বেকার, চোর, ডাকাত, খুনি, প্রতারকও তৈরি হয়।। যদিও কোন বৈধ পেশা বা  কাজই ছোট নয় তবুও শুধুমাত্র বোঝার সু্বিধার্থে বলি ছোট চাকরি বা কর্ম ছোট নয়। চুরি ডাকাতি তথা যে কোন অবৈধ কাজের মাধ্যমে উপার্জন না করলেই হলো।হালাল বা বৈধ কাজের মাধ্যমে উপার্জিত রুজির থেকে উত্তম কিছু নেই।  শিক্ষিত হয়ে কর্ম বা চাকুরি  ভালো চাকুরিজীবী বা পেশাজীবি হওয়াটা শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্য নয়। শিক্ষা অর্জনের মুল লক্ষ্য হলো মানুষের ভিতর ভালো মন্দ কাজের ভেদ করতে শেখা,মানবতা বোধ জাগানো সব মিলিয়ে Best Humankind হিসেবে একজন ব্যাক্তিকে তৈরি করা, গড়ে তোলা।

তো নারীকেও শিক্ষা দিলে সমান অধিকার দিলে সব নারীই যে ডাক্তার -ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট-শিক্ষিকা -বা কোন দোকান মালিক বা সেলসম্যান হবে তা নয় কিন্তু।। ১০০ নারীর ভিতর শতকরা পাঁচজন নারী চোর -নারী ডাকাত-নারী ছিনতাইকারী -দেহব্যবসায়ী-কাবিন ব্যাবসায়ী -ব্ল্যাকমেইলার তৈরি হবে।। নারীকে সুযোগ দিলে যেমন নারী ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার -পাইলট হয়।। তেমনি নারী চিটার অপরাধীও তৈরি হয়। পুরুষের ভিতর যেমন হিটলার, টিক্কা খান ছিলো নারীর ভিতর ও ইলসে কোচ, এলিজাবেথ বাথোরীও, আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দাও ছিলো।।  কিন্তু নারী পুরুষ সমঅধিকারের প্রবলেমটা এখানেই। নারীকে সমঅধিকার দিলেও সম দায়িত্ব বা সম শাস্তি পেতে হয়না।। একজন পুরুষ নারীর সাথে ০৫ বছর প্রেম করে ভালো না লাগলে অন্য কোথাও বিয়ে করতে চাইলে সেটা কিন্তু প্রতারণা বা ধর্ষণের আওতায় ফেলা যায় বা আইনের আশ্রয় নেওয়া যায়, কিন্তু সেই একই কাজ কোন মহিলা করলে কিন্তু সেটা মহিলার পছন্দমত জীবনসঙ্গী বেছে নেবার অধিকারের ভিতর ফেলা হয়, প্রতারণা বলা হয়না,ছেলেটিকে চুপচাপ সরে যেতে হয়।একজন পুরুষ বিবাহের সময নারীর রুপ দেখলে বা হাটাচলা দেখলে বা সংসারের কাজে পারদর্শী কিনা দেখলে সমস্যা, কিন্তু একজন নারী বিবাহের সময় ছেলের আয় কত, গাড়িবাড়ি ব্যাংক ব্যালান্স কত দেখলে সমস্যা নেই ।। নারী একটা থাপ্পড় কোন পুরুষকে দিলে, ডিভোর্স দিলে, সামর্থ্যের বাইরে কাবিন ধার্য্য করে বেধে রাখলে, বা অযথা সন্দেহের বশে বা প্রেম না করার রাগে লিঙ্গ কর্তন বা অপহরণ করে জোর করে বিয়ে করলে কোন সমস্যা নেই।।।সমাজে পুরুষ লোকেরাই বরং ভুক্তভোগী পুরুষকে নিয়ে হাসাহাসি করবে, বউ দ্বারা ডিভোর্স হলে ধ্বজভঙ্গ বলবে, লিঙ্গ কর্তিত হলে খোজা বলে হাসবে,অপহরণ করে কোন নারী বিয়ে করলেও কিছু বলবেনা, পুরুষদের ভাবোদয় হবেনা।।এর কারণ কি  হতে পারে? ভেবেছেন কখনো?  আসুন কয়েকটা উদাহরণে আসি। জানি আমরা মানবজাতি শ্রেষ্ঠ।তো আমরা যখন সুন্দরবনে যায়, বাঘ আমাদের আক্রমণ করে, হত্যা করে খেয়ে ফেলে, এগুলো নিয়ে আমরা মন থেকে বাঘের বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদী হইনা, বরং পরবর্তী বার সুন্দরবনে যাবার সময় আমরা সাবধান হয়ে যায়। বাঘ মারার জন্য বন্দুক নিয়ে যায়। ধরুন সাপে মানুষকে কামড়ায় তার জন্য আমরা কিন্তু ভয় পায় যায়গা ভেদে, কিন্তু এটা নিয়ে ততটা ভাবুনা প্রতিবাদ করিনা, পথে কুকুরে আমাদের দৌড়ানি দেয় তবুও এগুলো নিয়ে আমরা তেমন ভাবিনা। কারণ কি? কারণ আমরা মানুষ আমরা সুপ্রিম পাওয়ারের অধিকারী আল্লাহর সৃষ্টির ভিতর। সুতরাং দু একটা বাঘের হাতে মৃত্যূ, সাপের কামড়, কুকুরের কামড় আমরা কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি, এবং এতে মানবজাতির মান সম্মান তো যায়ইনা বা শ্রেষ্ঠত্বের স্থানচ্যুতি মোটেই ঘটেনা, বাঘ, কুকুর, সাপ ইতর প্রাণীই থেকে যায়। আবার কেউ যদি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, বা পথে পথে কান্নাকাটি করে এই বলে যে বাঘের কারণে, সাপের কারণে, কুকুরের কারণে  মানবজাতি হুমকির মুখে,। আসুন সবাই প্রতিরোধ করি, তাহলে তাকে পাগল বলবে সবাই, তার চিন্তা ভাবনা নিয়ে হাসাহাসি করবে। কারণ সকল সৃষ্টির ভিতর মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব এত উপরে যে মানবজাতি ঘুমিয়ে থাকলেও, বাঘ, সাপ, কুকুর কে নিয়ে না ভাবলেও, কোন ব্যবস্থা না নিলেও মানবজাতির সাথে বাঘ, কুকুর, সাপ জাতি পেরে উঠবে না, মানুষের সাধারন চলাচল আর বসত ঘর নির্মাণের কারণেই এমনিতে উপরোক্ত প্রাণীদের খাদ্য ও বাসস্থান ও বংশবৃদ্ধি বিলোপ হয়ে যায়, ফলে মানবজাতিকে এসব হিংস্র প্রাণীদের ধবংশ বা নির্বংশ  নিয়ে স্পেশাল কিছু ভাবতে হয়না, মানবজাতির সাধারণ চলাচল আর বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে এমনিতেই ধবংশ হযে যায় এরা, ধবংশ তো হয়ই আরো মাবজাতির চলাচলের রাস্তায়ই দেখা যায়না এসব হিংস্র প্রাণীদের। তো পুরুষেরাও বোধহয় দীর্ঘকাল ধরে চলা পুরুষতান্ত্রিক শাসন ও সমাজের কারণে নারীর দ্বারা পুরুষের উপর যে কোন আক্রমণ কে ভাবনার কোন বিষয়ই মনে করেনা, আতংকের বিষয়ই মনে করেনা, পুরুষজাতির অস্তিত্বের উপর হুমকি মনে করেনা।একজন নারী ধর্ষিত, যৌতুক বা ইভটিজিং এর মত গৃণ্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে  বা পুরুষ বা স্বামী বা বাবা ভাইয়ের হাতে যে কোন রকম নির্যাতনের স্বীকার হলে সেটার কথা যেমন সবার সামনে বলতে পারেন, এতে কোন লজ্জাবোধ করেন না।। এতে সে নারীর মানসম্মান যায়না, সমাজও তাকে নিযে হাসেনা।। আমরাও সমানে ইভটিজার ধর্ষক, যৌতুকখোর, বৌ পেটানো পুরুষকে পুরুষ হয়েও ঘৃণা করি, শাস্তি দিতে চাই, তার শাস্তির জন্য নির্যাতিত নারীর পক্ষে রাস্তায় মানববন্ধন করি, কারণ মা বোন আমাদের সবার আছে। আমাদের মা বোন ,কন্যাদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী আমরা গড়ে যেতে চাই।

কিন্তু আমরা কি ভাবি ভালোমন্দ সবার ভিতর আছে?? আমরা যদি নারীকেও পুরুষের মত সমান ক্ষমতাধর পরিপূর্ণ মানুষের মর্যাদা যদি নারীকে দিই, তাহলে নারীকে যদি পুরুষের সাথে সমানতালে চাকরি, সমানে কর্ম, শিক্ষা, উপার্জনের,সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দিই, সমান সম্পদের ভাগ দিই, তাহলে আমরা কেন নারীর দ্বারা ক্লাসে কোন ছেলেকে কটুক্তি করে হেসে ওঠার কথা বলতে ছেলেরা  লজ্জা পাবে কেন? নগদ বা বাকিতে কাবিন সহ বিয়ের পর এবং বিয়ের অনুষ্ঠান বাবদ  বড় খরচ করার পর যখন নববধু কয়েকমাসের ভিতর অন্য ছেলের  সাথে চলে যায় উপরি আবার কাবিন বাকি থাকলে সেটা জমি বিক্রি করে হলেও ছেলেকে শোধ করতে হয় সেটা কিন্তু কোন ছেলে ভাইরাল করেনা, বরং আরো ছেলেরা হাসে অমুকের বউ চলে গেলো ভেবে, ও শালা ছিলো ধ্বজভঙ্গ, তাই ওর বউ গেছে, বা বউটা খারাপ ছিলো এটুকুই সমাজ বলছে, ফলে দোষী মেয়েগুলোর এর বেশি কিছু হচ্ছেনা।সেই মেয়েটি আবার এক যায়গাতে সংসার করে সুখী হচ্ছে বা নতুন করে কোন ছেলেকে ফাঁদে ফেলছে ।।আবার বছরের পর বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ছেলেটা ছাড়লে বিয়ের প্রলোভনে  ধর্ষণ কেস হয়, কিন্তু মেয়েরা ০৫ বছর প্রেম করার পর ছেলেকে রিজেক্ট করলে কিন্তু মেয়ের বিরুদ্ধে তেমন কোন একশন হয়না।। সুনির্দিষ্ট কোন আইনও নেই পুরুষবান্ধব।। পেপার পত্রিকা খুললে ফেসবুকে চোখ রাখলে এরকম শত শত কেস বা ঘটনা আমরা দেখতে পাই।।আমাদের একটা ধারণা পাল্টাতে হবে সেটা হলো পুরুষ মানেই শক্ত কিছু, ব্যাপারটা তা নয় কিন্তু। পুরুষও মানুষ, পুরুষমানুষ শুধু নির্যাতনকারী নয়, পুরুষমানুষ প্রচুর পরিমাণে নির্যাতিতও হয় সমাজে চিরকাল।। এই নির্যাতিত পুরুষ মানুষদের জন্য হলেও নারীদের দ্বারা পুরুষ নির্যাতনের কথা বলতে আলোচনা করতে আমরা পুরুষেরা লজ্জাবোধ না করি।।কারণ নারী বাঘ, সিংহ জাতীয় প্রাণী নয়। নারীও মানুষ, সেজন্য তাদের সেচ্ছাচারীতা পুরুষজাতির অবদমনের কারণ না হয়ে ওঠে দিন দিন।।কারণ সুযোগ পেলে বখে যাওয়া শ্রেণীর নারীও ইতিহাসের পাতায় ভয়ংকর শ্রেণীর পুরুষের পাশাপাশি ভয়ংকর নারী হিসেবে নাম রেখে যাবে।সুযোগ অভাবে নারী পুরুষের মত খারাপ হয়নি, মানতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য।। পুরুষের পক্ষ থেকে নির্যাতিত নারীর পক্ষে এবং নির্যাতনকারী পুরুষের বিরুদ্ধে যেভাবে আন্দোলন গড়ে তোলে পুরুষেরা,, সেভাবে কিন্তু নির্যাতিত পুরুষের পক্ষ নিতে নারীকে দেখি তো নাই বরং পুরুষেরাও নারী দ্বারা  নির্যাতনের বা হয়রানির শিকার পুরুষের পাশে দাড়ায়না।। ধর্ষণের শিকার নারীর পোশাকের দোষ দিয়ে যেসব পুরুষ ফেসবুকে কমেন্ট করে ধর্ষকের দোষ হালকা করে সে যেমন দোষী তেমনি,, একজন নারী পুরুষকে নির্যাতিত হতে দেখে ভালো হয়েছে কমেন্ট করে নারীর পক্ষ নেয় সেও সমান দোষী।।নির্যাতিত নারীর পক্ষে ফেসবুকে পুরুষদের হাজার হাজার কমেন্ট মেলে, কিন্তু পুরুষ নারীর হাতে প্রতারিত বা  নির্যাতিত হলে নারীদের ওই প্রতারক মেয়েটার বিপক্ষে কোন কমেন্টই চোখে পড়েনা।। এটা সত্যিই নারী পুরুষ সমঅধিকারে বিশ্বাসী পুরুষের কাছে হতাশার।।। নারী বা পুরুষ নয় আমার পরিচয় আমি মানুষ।। তাহলে কেন আমি নির্যাতিত ব্যাক্তি নারী না পুরুষ সেটা দেখে কমেন্ট করবো।। সেজন্য নারী বান্ধব আইনের পাশাপাশি পুরুষবান্ধব আইনও সময়ের দাবি ও যুগের দাবি।।। তা না হলে অনেক নিরীহ পুরুষকে কুৎসিত মনের অধিকারী নারীর হাতে ভোগান্তি হযরানির শিকার বা বলির পাঠা হতে হবে।।  

এটা একটি সামাজিক সচেতনতামূলক লেখা ।নারী বা পুরুষ কাউকে হেয় করার জন্য নয় ।অপরাধীর ধর্ম বর্ণ লিঙ্গবিচার হয়না ।অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী ,নারী বা পুরুষ তার পরিচয় হতে পারেনা।পুরুষ দ্বারা নারীর উপর সংঘটিত সহিংসতা তো কম নেই ইতিহাসে ,তো পাশাপাশি নারীরাও যে পুরুষ নির্যাতনে পিছিয়ে নেই তার কিছু উদাহরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো।।এটা নারীকে হেয় করার জন্য নয়, এখন যে অপরাধী বা অপরাধ পুরুষের লিঙ্গে সীমাবদ্ধ নেই সেটা দেখানো হলো।।এবং পুরুষ অপরাধীদের অপরাধ নিয়ে নতুন করে বলবার মত কিছু নেই ,কারণ ইতিহাসে পুরুষ অপরাধীরা নারী অপরাধীদের থেকে অনেকগুণ নৃশংসতার নজির রেখেছে বিগত হাজার বছর ধরে।সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে নারীদের দ্বারাও আশংকাজনক হারে অপরাধ বৃদ্ধি।আসলে ভালো ও মন্দ মানসিকতা নারী ও পুরুষ উভয়ের ভিতরই রয়েছে। এবং পোষ্টটি তাদের জন্য যারা নারীকে অবলা ও নখ দাঁত বিহীন ভাবেন ।সময় এসেছে নারীকে সম্মান দেবার ,পুরুষের মত একজন পরিপূর্ণ মানুষ ভাববার ও অপরাধী হিসেবেও নারীকে কম কিছু না ভাববার ।।

Ilse Koch – Wikipedia

War Crimes Trial: Buchenwald (Ilsa Koch) – YouTube

Ilse Koch | German war criminal | Britannica

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নারী!! – nurubrl’s bangla blog (somewhereinblog.net)

হিন্দ বিনতে উতবা – উইকিপিডিয়া (wikipedia.org)

Elizabeth Báthory – Wikipedia

পরকীয়া প্রেমিক ও সন্তানদের নিয়ে স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী (jugantor.com)

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা (banglanews24.com)

কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে করলেন তরুণী (ekushey-tv.com)

প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দিল নারী – Bartabazar.com

পুরুষাঙ্গ কর্তন: স্ত্রীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন (banglanews24.com)

প্রেমে রাজি না হওয়ায় ছাত্রকে এসিড নিক্ষেপ ছাত্রীর (ekushey-tv.com)

মায়ের প্রেমের ‘কাঁটা’ মেয়ে, প্রেমিককে নিয়ে হত্যা! | 1089244 | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

শিশুসন্তানের পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা (rtvonline.com)

ঢাবির হলে ছাত্রীকে আড়াই ঘণ্টা নাচতে বাধ্য করল সিনিয়ররা! (jugantor.com)

স্বামীর করা যৌতুকের মামলায় স্ত্রী কারাগারে | Dhaka Tribune Bangla

স্বামীকে হত্যার পর ডান পা কেটে পাতিলে রাখেন স্ত্রী | Online Version (bd-pratidin.com)

সাতক্ষীরায় শিশুর দুই চোখে খুঁচিয়ে নির্যাতনকারী রানী বেগম গ্রেফতার (dailyinqilab.com)

স্ত্রীর সহযোগিতায় শিশুকে ধর্ষণ করতেন স্বামী (rtvonline.com)

প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলবে মা, ঘুমাতে না যাওয়ায় কাটলেন সন্তানের গলা (rtvonline.com)

যশোরে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্ত্রী গ্রেফতার! – খান জাহান আলী 24/7 নিউজ (khanjahanali24.com)

সৌদি ফেরত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে পালালো স্ত্রী | BD24Live.com

যশোরে সন্ধায় পর পার্কে পুলিশের অভিযানে তিন কিশোরী আটক – স্বাধীন বার্তা ২৪ (sadhinbarta24.com)

এবার আসুন নারীর উপর নির্যাতনকারী কিছু নির্মম অত্যাচারী পুরুষের লিংক দিই –

আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ফেলায় মেয়েকে খুন! (banglatribune.com)

যৌতুকের দাবিতে হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা (dhakapost.com)

ফতুল্লায় গার্মেন্টসকর্মীকে গণধর্ষণ (dailyinqilab.com)

কিশোরীকে আটকে রেখে তিন মাস ধরে গণধর্ষণ! | 1092732 | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

কক্সবাজারে কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ (mzamin.com)

ধর্ষণের পর হত্যা, সেফটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছে চাচাতো ভাই (rtvonline.com)

বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, প্রেমিক রিমান্ডে (channel24bd.tv)

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড (samakal.com)

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা! (somoynews.tv)

স্বামীর সামনে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ (shampratikdeshkal.com)

সাড়ে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যায় যুবক গ্রেফতার (jugantor.com)

উপরর সকল লিংক থেকে ঘটনা পড়ে বুঝলাম অমানুষ পিশাচ দুরাত্বা নারী পুরুষ বিচার করে হয়না ।।নারী ও পুরুষ উভয়ই একই রক্ত মাংশে গড়া মানুষ ।।বখে গেলে নারী ও পুরুষ উভয়ই অমানুষ হিসেবে আত্বপ্রকাশ করতে পারে ।।তাই আসুন অপরাধী বা পিশাচের লিঙ্গপরিচয় বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অপরাধী ভাবতে শিখি ।।

https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/nurubrl/30304139
error: Content is protected !!

DMCA.com Protection Status